Home » একবিংশ শতাব্দীর গোড়াতেও ভুতের আতঙ্ক ছাত্রীনিবাসে

একবিংশ শতাব্দীর গোড়াতেও ভুতের আতঙ্ক ছাত্রীনিবাসে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ আয়নাতে হঠাৎ ‘সিঁদুরের ছাপ’, রাতের অন্ধকারে বেজে উঠছে নূপুরের শব্দ। রাতবিরেতে ভূতের তাণ্ডবে তটস্থ মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান বানীচাঁদ আগরওয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাসের ছাত্রীরা। তাঁদের দাবি, রাত হলেই নাকি ছাত্রীনিবাসে বসে ভূতেদের আসর। এদিকে ছাত্রীদের ভূতের ভয় কাটাতে ছাত্রীনিবাস কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা এলাকার এক মৌলানা এবং পুরোহিতকে তলব করেছিলেন।

জানা গিয়েছে, এই ছাত্রীনিবাসে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ১০০ জন ছাত্রী থাকে। তাঁরা সকলেই ধুলিয়ান বানীচাঁদ আগরওয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের পড়ুয়া। করোনার কারণে প্রায় ২ বছর বন্ধ ছিল বিদ্যালয়। তালা পড়েছিল ছাত্রীনিবাসেও ।প্রায় দেড় মাস আগে খুলেছে ছাত্রীনিবাস। তারপর ঠিকই ছিল কিন্তু কয়েকদিন আগেই এই ভুতের আতঙ্কের ঘটনার উৎপত্তি। কয়েকজন ছাত্রীর দাবি, তারা হঠাৎ আয়নায় সিঁদুর লেগে থাকতে দেখতে পাচ্ছে। আবার কখনও শব্দ হচ্ছে নূপুরেরও। ভূতের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ছাত্রীরা।

বিষয়টি জানাজানি হতেই রীতিমতো উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রীনিবাস কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। মঙ্গলবার ছাত্রীনিবাসে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং মৌলানাকে ডাকা হয়। মন্ত্র পাঠের পাশাপাশি দোয়া এবং প্রার্থনা করানো হয়। জলের বোতলে কোরানের সুরা পড়েন মৌলানা। পাশাপাশি পুরোহিতও মন্ত্র উচ্চারণ করেন।

এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, কিছুদিন ধরে ছাত্রীরা ভয় পাচ্ছিল। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও পরে আমরা ছাত্রীদের বোঝানোর পরেও ওদের ভয় কাটানো যাচ্ছিল না। সেই কারণে ধর্মগুরুদের ডাকা হয়েছে। তাঁরা তাঁদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর গোড়াতেও ভূতের আতঙ্কে পড়ুয়াদের এই কুসংস্কারে ভীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশ।

About Post Author