সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাষ্ট্রসঙ্ঘের ১৫ সদস্যের পরিষদের কাছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি জোরদার দাবি তোলেন, অবিলম্বে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পদক্ষেপ করা উচিৎ নইলে রাষ্ট্রসঙ্ঘকে উঠিয়ে দেওয়া হোক। তার কারণ তিনি যেখানে ভাষণ দিচ্ছিলেন সেখানে শিশু সহ মৃতদেহের একটি যন্ত্রণাদায়ক ভিডিও দেখিয়েছিলেন। রাশিয়া যে ভাবে তার দেশে ধ্বংস লীলা চালিয়েছে তা ইসলামিক স্টেটস গ্রুপের সন্ত্রাসবাদী আচরণের থেকেও কম কিছু নয়। তিনি দাবি করেন ইউক্রেনে হত্যালীলা চালানোর জন্য রাশিয়াকে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বহিস্কার করা হোক।এই ধরনের পদক্ষেপ করতে পারলে রাশিয়া নিজেদের হিংস্রতা, বর্বরতা, যুদ্ধের গৃহীত সিদ্ধান্তকে আটকাতে পারবে বলেও যুক্তি দেন তিনি।
উল্লেখ্য নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একজন হিসেবে রাশিয়ার একটি ভেটো রয়েছে যা তারা প্রয়োগ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে যাতে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করা যেতে পারে, তা আটকাচ্ছে রাশিয়া।জেলেনস্কি বলেন যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করে এবং তাদের কাছে কোনও উপায় নেই বলে জানায়, তবে রাষ্ট্রসঙ্ঘকেই তুলে দেওয়া উচিত বলে দাবি করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তিনি তা ভাষণে বলেন, “উপস্থিত মাননীয় ভদ্র মহোদয়গণ , আপনারা কি রাষ্ট্রসঙ্ঘকে বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত? আন্তর্জাতিক আইনও কি আর নেই? যদি আপনাদের উত্তর না হয়, তবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
এক মুখ খোঁচা খোঁচা দাড়ি আর পরনে জলাপাই রঙের টি শার্ট জ়েলেনস্কির চোখেমুখেই ফুটে উঠেছিল যুদ্ধের বীভৎসতা। জেলেনস্কি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাইরের একটি শহর বুচাতে অসামরিক নাগরিকদের রাশিয়ান সৈন্যরা যে নৃশংসতা চালিয়েছিল তার একটি ভিডিও রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চেই তিনি দেখান। জ়েলেনস্কি বলেন, “বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে হত্যা করা হয়েছে সাধারণ নাগরিকদের। সাধারণ মানুষ যখন গাড়িতে করে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের ট্যাঙ্কার দিয়ে চাপা দিয়ে দেওয়া হয়েছে কেবলমাত্র নিছক আনন্দের জন্য। এমনকি হাত-পা কেটে নেওয়া হয়েছে। বাড়ির মহিলাদের তাদের সন্তানদের সামনেই ধর্ষণ করা হয়েছে। তাদের জিভ কেটে নেওয়া হয়েছে যাতে কোনও কথা না শুনতে হয়। এটা দায়েশ জঙ্গিদের কার্যকলাপের থেকে বিশেষ কিছু আলাদা নয়। আর এটা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক সদস্যই করছে।”তিনি বলেন, “হাজার হাজার” ইউক্রেনীয়কেও রাশিয়ায় নির্বাসিত করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার কথা সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে রাশিয়ার তরফে। ভারত এই জঘন্য ও নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে, এবং স্বাধীন ভাবে ঘতনের তদন্তের দাবি তুলেছে


More Stories
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত
ইতিহাস গড়তে পারল না নেপাল, ইংল্যান্ডের কাছে হার মাত্র ৪ রানে