Home » দিঘায় বস্তি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

দিঘায় বস্তি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

সময় কলকাতা ডেস্ক : হোটেল সম্প্রসারণের জন্য বস্তি দখলের চেষ্টা। দখল রুখতে গেলে বিদ্যুৎ ও পানীয়জল বন্ধ করে হেনস্থার অভিযোগ বস্তিবাসীকে। ওল্ড দিঘার পশ্চিম গদাধরপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । অভিযোগ পেয়ে হোটেল মালিক অরবিন্দ দে ও তার ছেলে ড্যানিয়েল দে-কে আটক করে দিঘা থানার পুলিশ। সমুদ্র গর্ভ থেকে ২০০মিটার দূরত্বে কোনো হোটেল রেস্টুরেন্ট তৈরি করা যায় না। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে  অভিযুক্তরা কিভাবে নির্মাণ কাজ করছেন  তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকার মানুষ।

বর্তমানে ৪০টি পরিবারের ৩০০ জন বসবাস করেন এই বস্তিতে। কেউ কেউ ৪০ থেকে ৫০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় ধরে এই বস্তিতে বসবাস করে আসছেন।  সমুদ্রের গায়ে এতদিন হোটেল থাকলেও তা লোকসানে চলছিল। কিন্তু হঠাৎই হোটেলের সীমানা বাড়ানোর দরকার পড়ে হোটেল মালিকের । এরপরই সামনের বস্তির ওপর নজর পড়ে তাঁর। সূত্রের খবর বস্তির মালিকানা দাবি করে বস্তির দখল নিতে গেলে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সেই জায়গা দখলে ব্যর্থ হয় হোটেল মালিক। এরপরই বস্তবাসীদের উৎখাত করতে জল ও বিদ্যুতের মত নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মালিকের বিরুদ্ধে। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বস্তির বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে দিঘা থানার পুলিশ মালিক ও তার ছেলেকে আটক করে ।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রামনগর ১ ব্লকের বিডিও বিষ্ণুপদ রায়। তিনি  জানিয়েছেন, হোটেল মালিকের এই দাদাগিরি কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না প্রশাসন।বিডিওর আশ্বাস বস্তির মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বস্তিবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন রামনগর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি নিতাইচরণ সার। তিনি বলেন, ‘ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। খুবই জঘন্যতম অপরাধ। বস্তির বাসিন্দারা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন। আশা করি বস্তির অসহায় মানুষজন এই অন্যায়ের সুবিচার পাবেন।’

দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসক মানসকুমার মণ্ডল বলেন, সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকায় সমুদ্র গর্ভ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও যে কোনও নির্মাণ কাজে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আছে।হোটেল সম্প্রসারণের কাজ হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে বস্তি মালিকানার বৈধ কোনও কাগজপত্র ছাড়াই কিভাবে এক জনৈক আইনজীবীর সাহায্যে আইনি নোটিসের উপর ভর করে সমুদ্রের পাড়ের জমির মালিকানা অধিকার দেখান ওই হোটেল ব্যবসায়ী ? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

About Post Author