Home » অবৈধ ভাবে মাটি কাটার দায় পুলিশের ওপর চাপালেন বিধায়ক ও মন্ত্রী

অবৈধ ভাবে মাটি কাটার দায় পুলিশের ওপর চাপালেন বিধায়ক ও মন্ত্রী

সময় কলকাতাঃ বুধবার রতুয়ার কাহালা সূর্যাপুরে ফুলহর নদী বাঁধ সংস্কারের সূচনা করেন রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই এলাকায় বাঁধ সংস্কার ও নব নির্মিত বাঁধের কাজের সূচনা হয়। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়, মালতিপুর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বকসি এছাড়া এদিন উপস্থিত ছিলেন রতুয়া-১ ব্লকের বিডিও রাকেশ টোপ্পো, জয়েন্ট বিডিও সৈকত দত্ত সহ সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রতুয়া থানার আইসি সুবীর কর্মকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নাককাটি ব্রিজের নিচ থেকে হাজার হাজার ট্রাক মাটি কাটা হচ্ছে। আর তা জেলা বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করা হচ্ছে। বিধায়কের দাবি, জেলাশাসক,পুলিশ সুপার, ও এডিজিকে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিধায়কের অভিযোগ, ‘মাটি মাফিয়াদের সঙ্গে রাতুয়ার আইসির যোগসাজস আছে। তাঁর মতে এইভাবে চললে বাঁধের অস্তিত্ব থাকবে না নাককাটি ব্রীজ ও থাকবে না সব ধুয়েমুছে চলে যাবে।’ এই আইসির রদবদল না করলে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে জানান বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়।নদীর মাটিকাটা নিয়ে সরব হয়েছেন খোদ রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও। এদিন তিনি বলেন, ‘নদী বাঁধের পাড় থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, এটা বিশাল একটা সমস্যা। ইটভাটার জন্য মাটি তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ প্রধানের ভাই,কেউ সভাপতির মামা,কেউবা সভাপতির ভাইপো।এই মাটিকাটা সঙ্গে যে যুক্ত থাকুক না কেন আমার নিজের আত্মীয় হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে দক্ষিণ মালদার বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুরি। তিনি বলেন সারা মালদা জুড়ে সমস্ত নদী থেকে বালি এবং মাটি কেটে বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী ও প্রশাসনের একটা অংশ। এটা আমরা আগে থেকেই বলছি। এখন তৃণমূলের বিধায়ক এই অভিযোগ করছেন। তার অভিযোগের দুটো কারণ হতে পারে,হয়তো সত্যিই তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে চাইছেন’ অথবা তিনি টাকার ভাগ পাচ্ছেন না। তাই প্রতিবাদী সাজচ্ছেন অভিযোগ বিজেপি নেতার।

এ বিষয়ে রতুয়া-১ ব্লক সিপিআইএম লোকাল কমিটির সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তৃণমূল দলটা তোলাবাজ মাফিয়াদের নিয়ে তৈরি হয়েছে।কেবলমাত্র মালদা জেলার সমস্যা নয় গোটা রাজ্যের সমস্যা। বালি পাচার, কয়লা পাচার, গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তৃণমূল সর্বোচ্চ স্তরের নেতারা। সমর বাবু কি সেই কথা জানেন না? এখন হয়তো ভাগ পাচ্ছেন না তাই আইসির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন।’

সমর মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে মালদা জেলা পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন পুলিশ কোনোভাবেই কোনো রাজনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। আমি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখেছি মাটি কাটার বিষয়ে কোনো গাফিলতি পাইনি চোখে পড়েনি দাবি মালদা জেলার পুলিশ সুপারের।

About Post Author