Home » স্কুল আছে, পড়ুয়া আছে, নেই শুধু শিক্ষক, বন্ধ হবে না তো বালুরঘাটের তুলট উচ্চ বিদ্যালয়?

স্কুল আছে, পড়ুয়া আছে, নেই শুধু শিক্ষক, বন্ধ হবে না তো বালুরঘাটের তুলট উচ্চ বিদ্যালয়?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পড়াশুনা।বিদ্যালয়, পড়ুয়া থাকা সত্ত্বেও অভাব পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার! এমনই বেহাল দশা দক্ষিন দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ ব্লকের তুলট উচ্চ বিদ্যালয়ের। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় এই স্কুলের পঠন পাঠন একবারে লাটে উঠতে বসেছে।বিদ্যালয় সুত্রে জানা গিয়েছে, তুলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানো হয়ে থাকে।এই স্কুলের পড়ুয়ার  সংখ্যা প্রায় ৬০০ র কাছাকাছি। স্থায়ী শিক্ষক হাতে গোনা মাত্র ২ জন এবং কম্পিউটর শিক্ষক রয়েছে ২ জন। জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। ফলে আগামী বছর যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃষণ জ্যোতি সরকার জানান, ‘নিজে সায়েন্স বিভাগের টিচার হয়েও বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সমস্ত কাজ কর্ম করে থাকি।যে সব শিক্ষকরা স্কুলে ছিলেন তারা উষষী পোর্টালের মাধ্যমে বদলি হয়ে চলে গিয়েছে।সরকারের উচ্চ আধিকারিকদের কাছে সে তথ্য জানা থাকা সত্বেও দীর্ঘ কয়েকমাস শিক্ষক শিক্ষিকার অভাবে এই বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন ব্যহত হচ্ছে। ফলে ভীষন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা।’

অবিলম্বে স্কুলের সব শ্রেনীতে পঠনপাঠন চালুর দাবিতে অভিভাবকদের পাশাপাশি সরব হয়েছে এলাকার নাগরিকরাও। বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেনীর পড়ুয়ারাও স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ করে তাদের পঠন পাঠন চালু করার দাবি জানিয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তার দানা বেঁধেছে স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে অভিভাবকদের। এ বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ এর কর্মাধ্যক্ষ প্রবীর রায় জানান, ,‘ওই স্কুলে যাতে অতি শীঘ্রই শিক্ষক নিয়োগ করা হয় সে ব্যাপারে শিক্ষক পরিদর্শকের সাথে কথা বলা হবে।’এ প্রসঙ্গে বিজেপি প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিনয় বর্মন জানান,‘বর্তমানে সারা বাংলায় শিক্ষক নিয়োগ করছে না রাজ্য সরকার, গোটা বাংলার প্রতিটি স্কুলে প্রায় একই অবস্থা। রাজ্য সরকার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না করা পর্যন্ত এই সমস্যা মিটবেও না।’

করোনা আবহের কারণে বিগত দুই বছর ধরে বন্ধ ছিল স্কুলের পঠন পাঠন। অতিমারির কাল কাটিয়ে ফের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শোনা গিয়েছে ঘণ্টা বাজার শব্দ।কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে সেই শব্দ ভবিষ্যৎ এ শুনতে পাওয়া যাবে কিনা সেই আশঙ্কায় রয়েছেন পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা।

 

About Post Author