Home » শামুক গতির ব্যাটিং রেকর্ড

শামুক গতির ব্যাটিং রেকর্ড

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক :

প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটার ও ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য সুনীল গাভাস্কার হইচই ফেলে দিয়েছিলেন ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই। হইচই কি আর সাধে! হাসাহাসি ও ছিল হইচইয়ের অঙ্গ। ১৭৪ বল খেলে নট আউট ৩৬। তখন ৬০ ওভারের ম্যাচ হত বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ড দল ৩৩৪/৪ করায় ৩৩৫ টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৬/৩। গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ ছাড়া ভারতের আর কোনো ব্যাটসম্যানকে দেখে মনে হয় নি যে তাঁরা একদিনের ম্যাচের সংজ্ঞা আদৌ জানেন। আর গাভাস্কার ছিলেন এই শামুক বাহিনীর সেরা। এরকম শম্বুক গতির ব্যাটিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রায় দেড়শো বছরের ইতিহাসে বেশ কিছু পাওয়া যাবে।

অনেকক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাটিং-শামুকরা হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক। প্রাসঙ্গিকভাবে বলতেই হয় নিউজিল্যান্ডের জিওফ অ্যালটের কথা।১৯৯৯ সালে সাউথ আফ্রিকার সাথে টেস্ট খেলা। সেবার কিউয়ি বাহিনী হারের মুখে। টেল এন্ডার হিসেবে ব্যাট করতে নেমে তিনি একশো মিনিটের বেশি বুক চিতিয়ে লড়েন তিনি । সাতাত্তর বল খেলে রান করেছিলেন শূন্য। আশ্চর্যজনক ক্রিকেট খেলায় শূন্য রান করেও যে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া যায় অ্যালটের ইনিংস তার প্রমান।

এরকম নজির কতই আছে। টেস্টে পাকিস্তানি ওপেনার মুদাসসর নজর ৫৫৭ মিনিটে ৪১৯বল খেলে যে সেঞ্চুরি করেছিলেন তা এখনও টেস্ট ক্রিকেটের মন্থরতম সেঞ্চুরি। সঞ্জয় মঞ্জরেকর ৯২-৯৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এই রেকর্ড প্রায় ভেঙে ফেলেছিলেন । ৫৩৫ মিনিটে ৩৯৩ বল খেলে শম্বুকগতির সেঞ্চুরি করেন তিনি যা ভারতীয়দের মধ্যে রেকর্ড।

এক দিবসীয় ক্রিকেটের সারসত্য খুব দ্রুত রান তোলা। ৭৫ সালের সুনীল গাভাস্কারের মত ইনিংস এখন লুপ্ত। ওডিআই বা এক দিবসীয় আন্তর্জাতিক খেলায় অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড বুনের ভারতের বিরুদ্ধে ১৬৬ বলের সেঞ্চুরি সবচেয়ে ধীরগতির সেঞ্চুরি হিসেবে রেকর্ড বুকে স্থান পেয়েছে।

টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অলোক কাপালির মন্থরতম ইনিংসের রেকর্ড ভেঙে দেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। পঁচিশ বা তার চেয়ে বেশি বল খেলে এত কম স্ট্রাইকরেটে ব্যাট কেউ করেন নি। ২০০৮ সালে মেলবোরনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২৭ বলে ৯ রান করেছিলেন ধোনি। বুন,ধোনি বা গাভাস্কার নামী ক্রিকেটার হলেও তাঁদের শ্লথগতির ইনিংস রেকর্ড বইয়ে স্থান পেয়েছে ।।

About Post Author