Home » ফেলুদা, তোপসে, জটায়ু সব মিলিয়েই সত্যজিৎ

ফেলুদা, তোপসে, জটায়ু সব মিলিয়েই সত্যজিৎ

সময় কলকাতা ডেস্ক: মাথায় টাক, নাকের নিচে ঝাঁটা গোঁফ ৷ পরনে ধুতি পাঞ্জাবি ও চপ্পল ৷ সত্যজিতের গল্পে মার্কামারা এই চেহারা আদ্যন্ত বাঙালি চরিত্রটি সকলের চেনা লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু।ফেলুদা গল্পে গোয়েন্দা আছেন, অ্যাসিস্ট্যান্টও রয়েছেন, ভিলেন তো রয়েইছেন, তাহলে আদ্যপান্ত এমন একটি হাসির খোরাক যুগিয়ে যাওয়া চরিত্রটির দরকার কেন অনুভব করলেন সত্যজিৎ।

১৯৬৫ সালে ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় প্রথম ফেলুদার গল্পের সূত্রপাত ৷ তারপর একে একে বাদশাহী আংটি, কৈলাশ চৌধুরীর পাথর, শেয়াল দেবতার রহস্য, গ্যাংটকে গণ্ডগোল, তারপর আসে সোনার কেল্লা, সেখানেই আগমন জটায়ুর। আজও বাঙালির একটি স্পর্শকাতর জায়গা জটায়ু। অনেক ফিল্ম সমালোচকরা মনে করেন, জটায়ু চরিত্রটি শুধুমাত্র হাসির জন্য নয় তথাকথিত গোয়েন্দা গল্পগুলিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর জন্য সৃষ্টি। যে গোয়েন্দা গল্প লিখতে গিয়ে অনেক সময় গল্পের গরু গাছে উঠে যায়, সেখানে একটা দাঁড়ির হয়তো দরকার ছিল, সেটা জটায়ু।

যেমন, সোনার কেল্লায় উটের কুঁজের যে বিবরণ জটায়ুর থেকে পাওয়া যায় তা কল্পনার মাত্রাও ছাড়িয়ে যায় । একসঙ্গে গোয়েন্দা এবং গোয়েন্দা তথা অ্যাডভেঞ্চার গল্পের লেখককে পর্দায় এনে হয়তো বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন সত্যজিৎ।

ফিল্ম সমালোচকদের মতে, জটায়ু সত্যজিৎ রায়ের তৈরি এমন এক চরিত্র, যা গোয়েন্দা গল্প বলার সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা গল্প বলার ট্র্যাডিশনকেও সমানে সমালোচনা করে চলে৷ আর এই সমালোচনার জন্যই মনে হয়, ইচ্ছাকৃত এবং সচেতনভাবে জটায়ু চরিত্রটিকে নিয়ে আসেন সত্যজিৎ৷ আর এখানেই সত্যজিৎ যতটা ফেলুদা বা তোপসে, ততটাই হয়ে উঠেছেন জটায়ু।

About Post Author