Home » অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দাওয়াই, বৃহত্তর ফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব বামেদের

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দাওয়াই, বৃহত্তর ফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব বামেদের

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ২০১১ সালে বাম জমানার অবসানের পর থেকেই দলের অন্দরেই শুরু হয় বিতর্ক। চলে ময়না তদন্ত। দলের মধ্যেই দাবি উঠতে শুরু করে বয়স জনিত নেতৃত্ব বদলের।কিন্তু তারপরেও বাম নেতৃত্ব দলের তরুণ তুর্কিদের আসন ছেড়ে দিতে ভরসা পায়নি। যার খেসারত  দেওয়া শুরু হল ২০১৬ সাল থেকে।সেই নির্বাচনে বামেদের দখলে ছিল ৩২ টি আসন। সেই শুরু, তারপর ২০২১ এর বিধানসভায় বামফ্রন্টের আসন এখন শুন্যতে পৌঁছেছে। যদিও ২০২২ সের পুরসভা নির্বাচনে বামেরা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু বর্তমানে বামেদের অস্তিত্ব  টিকিয়ে রাখতে এখন বড় ভরসা বামেদের সংগঠনকে আবারও নতুন করে সাজানো। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে বাম্ফ্রন্ট। এই পরিস্থিতিতে আবারও কেন্দ্রের গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে কেন্দ্র বিরোধী বৃহত্তর ফ্রন্টের ডাক দিল রাজ্য বামফ্রন্ট।

আগামী ২৫ শে মে থেকে বামফ্রন্টের মুল পাঁচটি দল সিপিআইএম,সিপিয়াই,আরএসপি,লিবারেশন ও ফরওয়ার্ড ব্লক কেন্দ্রীয় স্তরে কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।আর সেই কর্মসূচীকে  সামনে রেখে চেনা ছন্দের বাইরে এসে এবার আরও বেশি বাম মনোভাবা সম্পন্ন ছোট ছোট আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে আবারও বৃহত্তর ফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজ্য বামফ্রন্টের সদ্য সমাপ্ত  সিপিআইএমের রাজ্য সম্মেলনে। বদল আনা  হয়েছে রাজ্য সিপিআইএমের কমিটিতে।আর তার পরেই বামফ্রন্টের বৈঠকে বৃহত্তর ফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব আনে বামফ্রন্টের শাখা সংগঠন সিপিআই(এম এল)লিবারেশন। তাদের প্রস্তাব আরও একাধিক বামপন্থী দলগুলিকে যুক্ত করার জন্য বামফ্রন্টের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছে দাবি পেশ করে লিবারেশন। বামফ্রন্ট সুত্রের খবর লিবারেশনের প্রস্তাব অনুযায়ী অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা স্থাপন করার গুরু দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বামফ্রন্টের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্য বামফ্রন্টের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিমান বসুকে।

২০২১ এর নির্বাচনের আগে অবধি বামফ্রন্টের নবান্ন অভিযান,ব্রিগেড সমাবেশ,সহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে  মিছিলে ১১৭টি বাম দলকে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করতে দেখা যেত।কিন্তু ২০২১ এর নির্বাচনের পরে কার্যত সেই অংশগ্রহণ অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে।সিপিআইএম এর ওপর হারের দায় চাপিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বেশ কিছু সহযোগী বামদল।এমতাবস্থায় সিপিআই(এমএল)লিবারেশনের দ্বাদশ তম সম্মেলন শেষ হওয়ার পরেই সোমবার দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ও নবনির্বাচিত রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার বলেন “বামফ্রন্ট খানিকটা সরকার পরিচালনার মতন হয়ে গেছে।এই অবস্থায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ও রাজ্য সরকারের শোষণ মূলক নীতির বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।আর তার জন্য বামপন্থী মনভাবাপন্ন মোদী মমতা বিরোধী সব দলকেই আমাদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন মঞ্চ গড়ে তুলতে হবে।

আগামী ২৫শে মে দেশ জুড়ে পাঁচ বামপন্থী দল মিলে কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এদিন আলিমুদ্দিনে সিপিআইএম-এর রাজ্য সদর দপ্তরে বৈঠক ছিল পাঁচ দলের। সেই বৈঠকে এই প্রস্তাব পেশ করে সিপিআই(এমএল)লিবারেশন।তাদের দাবি জনস্বার্থে এই আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে হবে বিভিন্ন প্রান্তে। আর তাই দরকার বৃহত্তর ফ্রন্ট।এবং অন্যান্য বাম দল গুলিকে সংযুক্ত করতে হবে সিপিআইএম-এর সঙ্গে।লিবারেশন সুত্রের খবর আগামী বুধবার এই বিষয়ে চুড়ান্ত বৈঠকে বসবে রাজ্য বামফ্রন্ট।কার্যত তার আগেই অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় বসবেন বামফ্রন্টের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিমান বসু।

About Post Author