Home » রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতে হাওড়া পুরনিগম ভোট কবে কেউ জানেনা

রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতে হাওড়া পুরনিগম ভোট কবে কেউ জানেনা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও হাওড়া পৌর নিগম থেকে বালিকে বিযুক্তিকরণের জট কিছুতেই নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না বলে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে এমনটাই আবার অভিযোগ  করলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংঘাত বর্তমানে এই রাজ্যে সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।বৃহস্পতিবার আরও একবার সেই চিত্র প্রকাশ্যে এল । হাওড়া পৌরনিগম বিল পাস করা নিয়ে অযথা টালবাহানা করছে। রাজ্যপালকে একহাত নিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘ রাজ্যপালের কাছে হাওড়া বিলটি পাঠানো হয়েছে দীর্ঘদিন । এখনও বিল নিয়ে রাজভবন থেকে কোনও জবাব মেলেনি । এই বিলে তিনি হয় অনুমোদন দেবেন অথবা সেটি নিয়ে কোনও পরিবর্তনের পরামর্শ সহ ফিরিয়ে দেবেন। নয়তো তিনি সেটিকে নির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। উনি তার কোনোটাই করেছেন না ।’’

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘‘ রাজ্যপাল বিধানসভায় এসে লবিতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে যান । আর তাতে বলেন কোনও বিল আমার কাছে বাকি নেই । কিন্তু আমাদের বিধানসভাতে এখনও পর্যন্ত হাওড়ার ওই বিলের বিষয়ে কোনও জবাব আসেনি । আমরা জানি না এই বিলের ভবিষ্যৎ কী ! এক্ষেত্রে বিধানসভাই প্রথম জায়গা যেখানে জানাতে হয় । এখান থেকেই বিল রাজ্যপালের কাছে যায় । কাজেই বিলের ভাগ্য কী হল, সেটাও আমাদের কাছেই আসার কথা । এই বিষয়ে আমরা অন্ধকারে ।’’


যদিও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে ঘিরে হাওড়া জেলা রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হাওড়া সদরের শাসক দলের সভাপতি কল্যাণ ঘোষ তাকে পদ্মপাল বলে কটাক্ষ করে বলেন উনি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়কের গলাতেও একই সুর। তিনি বলেন উনি চাইলে এই বিল পাশ হয়ে যেত। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য হাওড়া শহরের নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

পাশাপাশি বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রাখার কথা মনে করান হাওড়ার জেলা বিজেপি নেতৃত্ব । তাকে স্পিকার না বলে লিকার বলেই কটাক্ষ করে বিজেপি। বিজেপির নেতা উমেশ রায় অভিযোগ করে বলেন বালিকে উন্নত পরিষেবা দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত টাকা কর বাবদ নিয়েছে এই রাজ্য সরকার। আবার নির্বাচনের মুখে বালিকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে রাজ্যপাল যে প্রশ্ন তুলেছিলেন বালিকে হাওড়া পৌর নিগমের অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাখ্যা আর এখন কেনো তাকে আবার আলাদা করা হচ্ছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তার উত্তর এখনও তারা দেন নি। এটা রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা। তারাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা।

রাজ্যের দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের লড়াইয়ের মধ্যে হাওড়া থেকে বালিকে আলাদা না করেই নিগমের ৬৬ টি ওয়ার্ডকে নিয়েই নির্বাচনে যাবে নাকি রাজ্যপাল এই বিলে সই করার পর রাজ্য সরকার হাওড়া ও বালির নির্বাচন আলাদা করে করবে, তার উত্তর সময়ই বলবে।

About Post Author