সময় কলকাতা ডেস্কঃএবার থেকে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে আচার্য হিসাবে দেখা যাবে রাজ্যপাল নন মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হবেন মুখ্যমন্ত্রীই। এবিষয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শীঘ্রই এ বিষয়ে বিধানসভায় বিল আনা হবে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করার প্রস্তাবে শিলমোহর দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে রাজ্য মন্ত্রিসভার সেই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। পাশাপাশি তিনি জানান, বিষয়টি কার্যকর করতে বিধানসভায় আইন পাশ করাতে হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত, রাজ্যপাল অনুমোদন না দিলে অর্ডিন্যান্স জারি করবে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষাকেন্দ্রগুলি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত নতুন নয়। পাশাপাশি, রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যের সংঘাতও নতুন নয়। সংঘাত শুধু বাংলাতেই নয়। এর আগে তামিলনাড়ুতেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অধ্যক্ষের পদ থেকে রাজ্যপালকে সরিয়ে দিয়েছে স্তালিন সরকার। এবার সেই পথেই হাঁটল বাংলা। গত বছর ডিসেম্বরেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে রাজ্যপালকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আনা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।আর তার ঠিক ছ’মাসের মধ্যে সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে গেল রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে পুঞ্চি কমিশন এ ব্যাপারে সুপারিশ করেছিল। তৎকালীন কমিশনের সদস্য ছিলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে নবান্নের তরফে।
প্রত্যাশিত ভাবেই এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির । বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘শাসকদলের মালিকানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। সমস্ত ক্ষেত্রে তাঁরই ক্ষমতা। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও যে তাঁরই মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তও তারই নমুনা। এর পর যদি রাজ্যপাল অনুমোদন না দেন, তা হলে বলা হচ্ছে অর্ডিনান্স জারি করা হবে। ফলে এই মুহূর্তে শিক্ষাব্যবস্থার যে কঙ্কালসার চেহারাটা মানুষের সামনে বেরিয়ে পড়েছে, প্রত্যেকটি স্তরে যে ভাবে প্রতিদিন দুর্নীতি সামনে চলে আসছে, সেখান থেকে মানুষের দৃষ্টিকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি অভিনব পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, এঁরা নিজেদের একটি স্বাধীন অঙ্গরাজ্য হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন। তাই সাংবিধানিক প্রধানকে মানেন না।’’
সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘সবই যখন তিনিই কন্ট্রোল করছেন, উপাচার্যরা তা হলে কেন তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবেন? আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ে যোগ্য আর কে আছেন! শিক্ষা জগতে তাঁর চেয়ে বেশি শিক্ষিত আর কে হবেন। আসলে মুখ্যমন্ত্রীর কাজ কম পড়ে গিয়েছে, সময় অনেক বেশি। একাধিক দফতরেরও মন্ত্রী তিনি। তাই কলুষতার যতটুকু বাকি আছে, সেটাও করে ফেলো। শিক্ষা দফতরকে কলুষতার আখড়া তৈরি করো, এটাই তাঁর লক্ষ্য। অত্যন্ত দুর্ভাগ্য আজ বাংলার।’’


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?