Home » পুত্র শোক ভুলতে গুরুদেব সকাশে দুখুমিঞা

পুত্র শোক ভুলতে গুরুদেব সকাশে দুখুমিঞা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ঊনসত্তর বছর। একদিন হঠাৎ জোড়াসাঁকোর বাড়িতে উদয় হলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। গুরুদেব নজরুলকে দেখে বসতে বললেন। তারপর শুরু হল বাঙালীর দুই প্রাণের কবির কথপোকথন। কথায় কথায় গুরুদেব জানতে পারলেন নজরুলের চার বছরের ছেলে বুলবুল স্মল পক্সে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেছে। শুনে চমকে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ। একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, এই বয়সে এসে শুধু কি খারাপ খবর পাওয়ার জন্যই বেঁচে থাকা? কবিগুরু নিজেও অবশ্য মাঝে মাঝে এসব নিয়ে ভাবতেন। আর সেই জন্য সময় সময় তাঁর নানান কবিতা আর গানের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছিল তাঁর এই সব চিন্তা ধারা।

তারপর বেশ কিছুক্ষণ চলল দুজনের নীরবতা। তারপর গুরুদেব নিজেই সেই নীরবতা ভাঙলেন। জিজ্ঞেস করলেন তোমার ওই ছেলের নাম কি রেখেছিলে? নজরুল বললেন অরিন্দম খালিদ, ডাক নাম ছিল বুলবুল।রবীন্দ্রনাথ বললেন তোমার ছেলে নাকি শ্রুতিধর ছিল? নজরুল তার উত্তরে বললেন হ্যাঁ গুরুদেব, কি বলবো,  জমিরুদ্দিন খানের কাছে তালিম নেওয়া আমার গান গুলো হুবুহু সে তার গলায় বসিয়ে নিত। বলতে বলতে পুত্র শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটল কাজীর। দুচোখ ভরে নেমে এল অঝোর ধারায় অশ্রুজল।

আবার নীরবতা। যেন দুই কবিই আত্মস্থ করছেন সন্তান হারানোর পার্থিব শোকের অনুভতিকে। গুরুদেব আবার বলতে শুরু করলেন আমার শমীও (শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর) খুবই প্রতিভাবান ছিল। সবাই বলত ও নাকি আমার কার্বন কপি ছিল। শমীও তো চলে গেল মাত্র এগারো বছর বয়সে। নজরুল শুধু বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলেন গুরুদেবের দিকে। আর গুরুদেব আপন মনে বলে চললেন, সেদিন রাতে সারা পৃথিবী যেন জ্যোৎস্নার আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে। আর প্রকৃতি তার নিয়ম মেনেই রোজকার মত বয়ে চলেছে। যেন জীবন মৃত্যুর মাঝখানে থেকেও তার কিছুই যায় আসে না। কাজী নজরুলের চোখে আবার নেমে এল অঝোর ধারায় জল। আর গুরুদেব আবার আপন মনে বলতে  লাগলেন এই ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তার এটাই বোধ হয় ইচ্ছা। মৃত্যু আসবেই, অকালেই হয়ত আসবে। বিরহ শোক থাকবে। তারই মাঝে আনন্দও থাকবে দুখও থাকবে। কিন্তু আমাদের কাজ থামালে চলবে না।  কর্তব্য আমাদের করে যেতে হবে। এইটেই হল মহাবিশ্বের পরম সত্য।সকাশে

About Post Author