Home » তোলা চেয়ে না পাওয়ায় পানিহাটিতে ব্যাপক বোমাবাজি

তোলা চেয়ে না পাওয়ায় পানিহাটিতে ব্যাপক বোমাবাজি

সময় কলকাতা ডেস্কঃ তোলা দিতে অস্বীকার করার পরেই এলাকায় বোমাবাজি। পানিহাটি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত অ্যাঙ্গেলস নগরে চেনামুখ ক্লাবের কাছে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে খড়দহ থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, পানিহাটির অ্যাঙ্গেলস নগরে চেনামুখ ক্লাবের কাছে ব্যবসায়ী রন্টা মাইতির প্লাস্টিক কারখানায় একটি চারচাকা গাড়ি করে শনিবার তোলা চাইতে গিয়েছিল বিশু কর্মকার ওরফে চোর বিশু নামে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী। কিছুদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল সে। তার সঙ্গে ছিল গাড়ির চালক পাপাই নামে আরও এক দুষ্কৃতী। এরপরই রন্টা মাইতির কাছ থেকে তারা তোলা চায়। কিন্তু, সেই ব্যবসায়ী তোলা দিতে অস্বীকার করলে হুমকি দেয় বিশু ও পাপাই। সেই সময় রন্টা পানিহাটি পুরসভার কাউন্সিলর জয়ন্ত দাসকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানান। বিষয়টি জানা মাত্রই খড়দহ থানায় খবর দেন কাউন্সিলর। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় খড়দহ থানার পুলিশ।

এরপর পুলিশ দুষ্কৃতীদের ধরতে গেলে তাঁরা পুলিশকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে গাড়িতে করে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনায় পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আহত হয় খড়দহ থানার পিসি পার্টির এস আই প্রণব দেবনাথ। তাকে সাগর দত্ত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। এছাড়া দুষ্কৃতীদের গাড়ির আঘাতে আরও দুজন এলাকাবাসীও জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এমনকি এলাকা ছেড়ে তাঁরা চম্পট দেওয়ার সময়ই পানিহাটি অ্যাঙ্গেলস নগরের ডাঃ লাল মোহন ব্যানার্জি রোডের উপর ও যুগবাণী ক্লাব লক্ষ্য করে বোমাবাজি করে দুষ্কৃতীরা। একটি বোমা ফাটলেও আরও একটি বোমা না ফাটায় তা উদ্ধার করে নিয়ে যায় খড়দহ থানার পুলিশ।

এরপর অভিযুক্ত ওই দুই দুষ্কৃতী পালানোর সময় পানিহাটি ধানকল মোড়ে বি.টি. রোডের ওপর পানিহাটি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়ন্ত দাসের তৃণমূল কংগ্রেসের পাটি অফিসে পাঁচটি বোমা মারে। তবে চারটি বোমা ফাটলেও একটি বোমা ফাটেনি। ঘটনাস্থল থেকে একটি কৌটো বোমা উদ্ধার করেছে খড়দহ থানার পুলিশ। বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলে থাকা একজন যুবক আহত হয়েছেন। এদিন দুষ্কৃতীরা মোট ৭ টি বোমা ছোড়ে বলেই জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে এলাকায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যের ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন? এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পন্টাই নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ব্যবসায়ী রন্টা মাইতিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় কেন তিনি পুলিশকে ফোন না করে কাউন্সিলরকে ফোন করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, কাউন্সিলর জয়ন্ত দাসকে খুন করার জন্যই ওই এলাকায় গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।

About Post Author