সময় কলকাতা ডেস্কঃ আর্থিক তছরূপ মামলায় গ্রেফতার হলেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন।২০১৬ সালে সত্যেন্দ্র জৈন যে সমস্ত কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন ,সেই কোম্পানির মাধ্যমে হাওলার নেটওয়ার্কে প্রায় ৪.৮২ কোটি টাকা তছরুপ করেন বলে অভিযোগ ।আর সেই অভিযোগেই সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট অর্থাৎ ইডি। এক টুইটের মাধ্যমে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া তীব্র ভাষায় আক্রমণ জানিয়েছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তার অভিযোগ হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপি হারের ভয়ে মিথ্যা মামলায় সত্যেন্দ্র জৈনকে ফাঁসিয়েছে। আম আদমি পার্টির হয়ে হিমাচল প্রদেশের দায়িত্বে রয়েছেন সত্যেন্দ্র জৈন।
ইডির হাতে সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেপ্তারীর আগেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তার বক্তব্যে জানিয়েছিলেন সত্যেন্দ্র জৈনকে ইডি গ্রেফতার করতে পারে। পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছিলেন বিজেপির সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হবে এবং যে মিথ্যা কেসে সত্যেন্দ্র জৈনকে ফাঁসানো হয়েছে ।সেই মামলা থেকে খুব শীঘ্রই সত্যেন্দ্র জৈন মুক্তি পাবে।বিজেপি এজেন্সিকে দিয়ে সত্যেন্দ্র জৈনকে থামানোর চেষ্টা করছে কারণ হিমাচল প্রদেশ বিজেপি এবার হারের মুখে ।

সে ক্ষেত্রে আম আদমি পার্টির হয়ে সত্যেন্দ্র জৈনের ভূমিকা অগ্রগণ্য। সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেপ্তারি নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত। কেজরিওয়াল আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজেপি আরো অনেক নেতাকে হেনস্থা করতে পারে। তিনি দাবি করেছেন আম আদমি পার্টি কোনরকম অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করে চলে না। সম্প্রতি পাঞ্জাব সরকারের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির নেতা বিজয় সিংলাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঞ্জাবের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে ছিলেন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে কোন মন্ত্রীকেও রেয়াত করা হবে না।

দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে তাই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। এর আগেও একাধিক রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছেন। বঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছেন। মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গ্রেপ্তারীর পর কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছেন আম আদমি পার্টির একাধিক নেতা।
মূলত যে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট অর্থাৎ ইডি দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেপ্তার করেছে সেই অভিযোগে দেখা গিয়েছে সত্যেন্দ্র জৈনের যে সমস্ত কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করতেন সেই কোম্পানির মাধ্যমে একাধিক টাকা বিভিন্ন জায়গায় ট্রানজ্যাকশন করা হয়েছে। দিল্লির আশেপাশের অঞ্চলে ফাঁকা জমি এবং কৃষি জমি কেনার জন্যই এই টাকার অবৈধ লেনদেন করা হয়েছে। যদিও ইডির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করছেন আম আদমি পার্টির নেতৃত্ব। সামনেই হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে নির্বাচনে রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা বিজেপির ভরাডুবি হতে পারে। এই ভরাডুবি কে হাতিয়ার করে সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেপ্তারি প্রেক্ষিতে ময়দানে নেমে পড়েছে আম আদমি পার্টি। আম আদমি পার্টি থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে বিজেপি হারের ভয়েই সত্যেন্দ্র জৈনকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছে। সত্যেন্দ্র জৈন হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে দিল্লির রাজনৈতিক মহল সরগরম। এখন দেখার সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেপ্তারি হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলে কিনা?


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?