Home » সবাই তো আর চিরন্তন বাবুর মত প্রাক্তন সরকারি আমলা নন !

সবাই তো আর চিরন্তন বাবুর মত প্রাক্তন সরকারি আমলা নন !

জয়দীপ মৈত্র, দক্ষিণ দিনাজপুর, সময় কলকাতা ডেস্কঃ তিন মেয়ের তিন জামাই। থাকে তিন  ভীনরাজ্যে। বছরের এই একটা সময়ই কয়েকটা দিনের জন্য দেখা হয় মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে। আজ প্রায় দশ বছর ধরে জামাই ষষ্ঠী করে আসছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা অবসর প্রাপ্ত সরকারি আমলা  তথা শ্বশুর মশায় চিরন্তন চ্যাটার্জি। প্রতি বছরই জামাইদের পাতে থাকে ইলিশ মাছের আইটেম। কিন্তু এ বছর কপালে চিন্তার ভাঁজ চিরন্তনবাবুর। কারণ জামাইষষ্ঠীর আগে গঙ্গারামপুর মাছ বাজারে আগুন ইলিশের দামে। এক কেজির বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম ১৭০০  টাকা থেকে ১৮০০ টাকা। আর দুয়ের বেশি হলে তা বেড়ে হাজার দুইয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

উল্লেখ্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মাছের বাজার ও নানান ধরনের মাছ চাষ ও মাছ বিক্রির জন্য বাংলা জুড়ে সুপরিচিত ও বিখ্যাত। জামাইষষ্ঠীর আগে গঙ্গারামপুর মাছ বাজারে আগুন ইলিশের দামে। জামাই বাবাজিদের আদর আপ্যায়নে কোনরকম খামতি রাখতে নারাজ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। আর সেই জন্য চিরন্তন বাবু চার হাজার টাকায় দুটি রূপালি ফুলকো বালিশের মতন দেখতে ইলিশ বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। কারণ বছরের এই একটা দিনই জামাইদের ভুরিভোজ করানোর জন্য পকেটের টাকা যা যায় যাক, কুছ পরোয়া নেহি। কিন্তু সবাই তো আর সরকারি কর্মচারি  বা প্রাক্তন আমলা নয়, যে পরোয়া করবে না ! তাই অন্যান্য শ্বশুর-শাশুড়িদের মাছ সহ অন্যান্য সামগ্রী কিনতে গিয়ে চোখে সর্ষে ফুল দেখতে হচ্ছে।কিন্তু তবু জামাই বলে কথা, মেয়ের সুখের কথা ভেবে অগত্যা  শ্বশুর-শাশুড়িদের বাজারে গিয়ে ছোট ইলিশ কিনতে হচ্ছে  প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। আর তার ওপরে, এক কেজির দাম ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা। প্রসঙ্গত, এই উৎসবে বেশির ভাগ ইলিশের চাহিদাটাই বেশি থাকে।

চলতি বছরে সেই ইলিশের স্বাদ পেতে এবার বঞ্চিত আম বাঙালি, কারণ প্রধান কারণ অতিরিক্ত দাম। মূলত জামাইষষ্ঠীকে কেন্দ্র করে চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম  থাকায় পাইকারি ও খুচরো বাজারে দাম বেড়ে গেছে বলে আড়তদার, খুচরো বিক্রেতা ও ক্রেতারা জানিয়েছেন। ইলিশের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। বাজারে এক কেজি বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। অন্যদিকে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর শহরের বিভিন্ন বাজারে কমবেশি ইলিশ মাছের দাম বেশ চড়া রয়েছে।  পাশাপাশি গঙ্গারামপুর হাইরোড মাছ বাজার, চিত্তরঞ্জন মাছ বাজার, পান সমিতি মাছ বাজার কালদিঘি ও ধলদিঘি মাছ বাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় ইলিশ মাছের দাম রয়েছে চড়া। তাই এবারের জামাইষষ্ঠীতে জামাই বাবাজিদের আদর আপ্যায়নের জন্য ইলিশ মাছ কিনতে গিয়ে লক্ষ্মীর ভাড়ার শুন্য অনেক শ্বশুর-শাশুড়ীদের । তবে যাই হোক বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। জামাইষষ্ঠীতে গঙ্গারামপুরের বাঙালিরা ও জামাইরা ইলিশ খাবে না তা কি হয়, তাই আগামীকাল চিরন্তন বাবুর মত আরও অন্য শ্বশুর শাশুড়িরা জামাইদের ভুরিভোজ করাতে ইলিশ মাছের স্পেশাল আইটেম সাজিয়ে কব্জি ডুবিয়ে ভুরিভোজ করাবেন তারই অপেক্ষায় রয়েছেন ।

About Post Author