সময় কলকাতা ডেস্কঃভবানীপুর জোড়া খুন কাণ্ডে পুলিশের হাতে উঠে এল নতুন তথ্য। সূত্রের খবর সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে খুন হন ওই গুজরাতি দম্পতি। এমনকি পুলিশের তরফে এও জানা গেছে তারা বাড়ি বিক্রির কথা ভাবছিলেন। সেই বাড়ি বিক্রি নিয়েই কোনও রকম বিবাদ চলছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখছে লালবাজারের গোয়েন্দারা ?পাশাপাশি মৃত দম্পতির দুটো ফোনই নিখোঁজ বলে জানা গেছে। যার মধ্যে একটি ফোন চালু রয়েছে। সেই ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে। দম্পতির বাড়িতে গিয়েছেন ২ পুলিশ আধিকারিক। তাদের হাতে এসেছে বেশ কিছু নথি। এদিকে অই ফ্ল্যাটের উল্টোদিকের যে ফ্ল্যাট রয়েছে সেই বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখছে পুলিশ আধিকারিকরা।
উলেখ্য সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুরের হরিশ মুখার্জি রোডের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ব্যবসায়ী দম্পতির রক্তাক্ত দেহ। গুজরাতি দম্পতি অশোক শাহ এবং তাঁর স্ত্রী রেশমি শাহকে খুন করা হয়েছে বলেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। দুজনের দেহেই একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গুজরাতি দম্পতি গুজরাতি ব্যবসার পাশাপাশি শহরে শেয়ার বাজারের ব্যবসায়ও যুক্ত ছিলেন। তিন মেয়ের মধ্যে একজন তাঁদের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটেই থাকতেন। এদিন ঘটনার সময় তিনি বাইরে ছিলেন। এরপর সন্ধ্যা বেলায় বাড়ি ফিরেই তিনি দেখেনবাবা ও মায়ের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের তরফে খবর পৌঁছায় ভবানীপুর থানায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ভবানীপুর থানার পুলিশ, কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড স্কোয়াডের তদন্তকারী দল এবং অ্যাডিশনাল কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলও। এমনকী সোমবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মৃত দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত করতে স্নিফার ডগ নিয়ে যাওয়া হয় এলাকায়। স্নিফার ডগটি ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গন্ধ অনুসরণ করে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে হরিশ পার্কের দিকে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘরে টিভি চলছিল, আলমারির দরজাও খোলা ছিল। মহিলার হাতের বালা এবং আংটি ছিল না বলেই তার মেয়ে জানিয়েছেন। তাহলে কি লুঠের উদ্দেশ্যে খুন? নাকি ব্যবসায়িক কোনও শত্রুতার জেরে খুন? বাড়িতে ঢুকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাল কারা? কীভাবে খুন করল? এইসব প্রশ্ন ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য।
ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “একটা জিনিস আপনাদের অ্যাসিওর করতে পারি ক্রিমিনাল ক্রাইম করে ছাড়া পাবেন না। সুতরাং অপরাধীরা ধরা পড়বেই এবং কোর্টে প্রডিউস হবেই।”


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা