Home » এবার শুভেন্দুকে গ্রেফতারের দাবিতে রাজভবনে নালিশ তৃণমূলের

এবার শুভেন্দুকে গ্রেফতারের দাবিতে রাজভবনে নালিশ তৃণমূলের

সময় কলকাতা ডেস্কঃ এটা দুর্নীতি নয়, এটা ষড়যন্ত্র। তিনি তখন ছিলেন তৃণমূলে। এভাবেই  বিরোধীদের কটাক্ষে বিঁধেছিলেন খোদ সেই সময়ের তৃণমূলের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, সময় বদলেছে। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। এখন তিনি নিজেই বিরোধী দলনেতা। এখন অভিযোগগুলির সুর পাল্টেছে । ক্রমাগত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক নিয়োগ, কাটমানি, পঞ্চায়েতে দুর্নীতি, আবাস যোজনা – একাধিক বিষয়ে সরব হয়েছেন তিনি। একাধিক দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তলবের মুখে শাসকদলের একের পর এক নেতৃত্ব। কিন্তু, এবার তিরের অবস্থান বিপরীত মুখী। অভিযোগ খোদ বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধেই।

সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের চিঠিতে দু্নীতির তালিকায় উঠে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গ্রেফতারের দাবিতে পথে নেমেছে তৃণমূল। চিটফান্ড দুর্নীতিতে বিজেপির ছত্রছায়ায় থাকা অভিযুক্তদের ছাড় এবং সিবিআই, ইডির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে এদিন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের দ্বারস্থ হয় তৃণমূলের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল। উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ, তাপস রায়, শশী পাঁজা, অর্জুন সিং, সায়নী ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। রাজভবন অভিযানে নন্দীগ্রাম থেকে আসেন ফিরোজা বিবিও। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপিতে গেলেই যেন তদন্তের বাইরে চলে যায়। সরব ত়ৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।

 

উল্লেখ্য, শুধুই যে দুর্নীতি নয়। একুশের নির্বাচনের পর বিজেপি থেকে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন করেছিলেন মুকুল রায়। তারপরেই শাসকদলের পক্ষ থেকে  বিধানসভায় পিএসির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু, এই পদে বিরোধী পক্ষেরই কাউকে বসতে হয়, এই দাবিতে সরব হয়েছিল বিজেপি।  দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এনে, মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য রাজ্যপাল থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। পদ্ম শিবিরের এই পন্থাই অনুসরণ করে এবার শুভেন্দু অধিকারীর গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, বিজেপি গণতন্ত্রবিরোধী কাজ করছে।

এদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা। রাজ্যপাল নিজেও এনিয়ে টুইট করেছেন। তবে শুধুই রাজভবনই নয়। প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কলকাতার কার্যালয় সিজিও কমপ্লেক্সেও। প্রতিবাদ হয় পূর্ব মেদিনীপুরের একাদিক প্রান্তেও শাসকদলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, তৃণমূল এবং সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যপালের সঙ্গে এই আলোচনা জারি থাকবে।

 

 

 

About Post Author