বিশ্বজিৎ হীরা, সময় কলকাতা:বুকার পুরস্কার বিজয়ী ৭৫ বছর বয়সে বিখ্যাত লেখক সালমান রুশদি এক আততায়ীর হাতে আক্রান্ত হলেন। আততায়ীর ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে ভর্তি হাসপাতালে। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখনো জানা যায়নি। আমেরিকার পশ্চিম নিউইয়র্কে চৌতাকুয়া ইনস্টিটিউটে এক গ্রীষ্মকালীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন “দ্যা স্যাটানিক ভার্সেস “এর লেখক সালমান রুশদি। বক্তৃতা চলাকালীন এক আততায়ী মঞ্চে উঠে আচমকায় সালমান রুশদির ঘাড়ে ছুরির আঘাত করে। পরে আরো দুইবার ছুরির আঘাত করে আততায়ী। মঞ্চে সেই সময় সালমান রুশদির ইন্টারভিউ নিচ্ছিলেন হেনরি রিও। আততায়ী হেনরি রিওকেও ছুরির আঘাত করে। ছুরির আঘাতে সালমান রুশদি মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। ছুটে আসেন সভা কক্ষে থাকা দর্শকরা এবং অ্যাম্ফিথিয়েটারে নিরাপত্তা রক্ষীরা। সালমান রুশদিকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত উপন্যাসিক ১৯৮১ সালে মিডনাইটস চিলডেন্স দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল সাহিত্য সমাজে। তৎকালীন সময়ে শুধুমাত্র ব্রিটেনেই ১ মিলিয়ন এর বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বজোড়া তার খ্যাতি এনে দেয় তার বিতর্কিত উপন্যাস ১৯৮৮ সালে লেখা, দ্য স্যাটারনিক ভার্সেস। এই উপন্যাসের জন্য সালমান রুশদির উপর রুষ্ট হয়েছিল সমগ্র ইসলামিক দেশ। বহু দেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল “দ্যা স্যাটারনিক ভার্সেস” উপন্যাসটিকে।
তিনি এমন একজন লেখক ছিলেন যার ব্রিটিশ এবং আমেরিকায় নাগরিকত্ব রয়েছে। কিন্তু তিনি বরাবরই মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তার “দ্যা স্যাটানিক ভার্সেস “উপন্যাস বের হওয়ার পরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোইমেনি সালমান রুশদির মৃত্যুর ফতোয়া জারি করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে সালমান রুশদির মাথার দাম রেখেছিলেন ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্য স্যাটানিক ভার্সেস-এর প্রকাশক খুন হয়েছেন, পাশাপাশি খুন হয়েছেন বহু মানুষ।” দ্যা স্যাটারনিক ভার্সেস” লেখার জন্য সালমান রুশদিকে ৯ বছর আত্মগোপন করে থাকতে হয়েছিল।
- যদিও পরবর্তীকালে ইরান সরকার খোইমেনির এই ফতোয়াকে গুরুত্ব দেয়নি। ইরান সরকার গুরুত্ব না দিলেও সালমান রুশদি একাধিক মৃত্যুর হুমকি দিয়ে ফোন কল পেয়েছেন বিগত বেশ কিছুদিন ধরে। এদিনের এই আততায়ীর হামলা সেই হুমকির অংশ বলে মনে করছেন সাহিত্য জগত।


More Stories
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে জিতবে কারা? ফুটবল তারকারা ও কোচেরা কি বলছেন?
৩১ সালে সুদসমেত ফিরিয়ে দেব : বুলডোজারের পরে অভিষেকের হুঙ্কার
বিদায় স্যার গ্যারী সোবার্স