Home » মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা

মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি নিয়ে মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সম্পত্তির হিসেব চেয়ে সোমবার আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর দাবি, ২০১১ সালের পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। মামলায় তাই ইডি, সিবিআই এবং আয়কর দফতরকে দিয়ে তদন্ত করানোর আবেদন জানানো হয়। এই খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যায়। সোমবার মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমাবেশেই সেই খবর পান তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন সমাবেশ থেকে তিনি বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকার সুবাদে এক লক্ষ টাকা করে পেনশন পেতাম, এক পয়সাও নিইনি। এই মামলা এখানে কেন, এই মামলা আন্তর্জাতিক আদালতে হোক।’

মামলাকারী আরও দাবি, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ একসময় বলেছিলেন, সারদার সব টাকা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের কাছে। সেই টাকাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে। কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের স্ত্রী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হন। তাঁর পেশ করা হলফনামায় দুটি কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ, সেখানে একাধিক সম্পত্তির উল্লেখ হয়নি। সম্পত্তি জলের দামে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেবিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রামায়ণের কাহিনীর উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিবার তথা ভাই বোনেদের সম্পত্তি তাঁর নয়। তবে, বিষয়টি চাউর হতেই যে ভেঙে পড়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো, তা কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়নি। বই লিখেই যে রোজগার তাঁর, আগেও বহুবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৃণমূলের ১৯ জন নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আয়ের অতিরিক্ত সম্পত্তি মামলা দায়ের করা হয়। নাম ছিল ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ব্রাত্য বসু সহ শাসকদলের পোড়খাওয়া নেতাদের। তারই পাল্টা হিসেবে সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী শিবিরের ১৭ জনের বিরুদ্ধে একই রকম মামলা দায়ের হয়। পরে আরও কয়েকজনের নাম সংযোজন করা হয়। আয়ের অতিরিক্ত সম্পত্তি মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী, বিজেপি-র তাবড় নেতাদের নামে বিরোধী নেতা-মন্ত্রীদের আয়ের অতিরিক্ত সম্পত্তি মামলার আবেদন জানানো হয়। মামলাকারীর প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে রাজনাথ সিংহ, স্মৃতি ইরানি, ধর্মেন্দ্র প্রধান, জেপি নাড্ডার সম্পত্তি বৃদ্ধি হয়েছে? কীভাবে সম্পত্তি বৃদ্ধি হয়েছে শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং সৌমিত্র খাঁ-র? এমনকী মামলা হয় বাম নেতৃত্ব সুজন তন্ময় ভট্টাচার্য সহ বেশ কয়েকজনের নামেও।

About Post Author