সময় কলকাতা ডেস্ক:ঝাড়খন্ডে কার্যত চলছে লুকোচুরি খেলা। লোটাস অপারেশনের ধাক্কায় ঝাড়খণ্ড সরকারের পতন আটকাতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। ঝাড়খন্ডে চলমান রাজনৈতিক নাটকের মধ্যেই ঝাড়খন্ড জন মুক্তি মোর্চা এবং কংগ্রেস বিধায়কদের পাঠানো হয়েছে রায়পুরে।

কার্যত হেমন্ত সোরেন-এর কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বিধায়কদের। মঙ্গলবার জোটের বিধায়কদের বিমানে করে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে রায়পুরে। বিধায়কদের নিরাপদ ভাবে রায়পুরে পাঠানোর উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার রাঁচির বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ঝাড়খণ্ডের বিধায়করা বাসে করে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সন্ধ্যা ৭ টার সময় বিধায়করা রায়পুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন সেখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় রায়পুরের একটি রিসোর্টে।
বিধায়কদের বিনোদনের ব্যবস্থা
একটি ভিডিও দেখা গিয়েছে ,যে রিসার্টে বিধায়কদের রাখা হবে সেই রিসোর্টের সামনে বিধায়কদের জন্য জড়ো করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মদ। রিসটে নিরাপদে এবং আমোদ ফুর্তিতে বিধায়কদের রাখাই উদ্দেশ্যেই মদের এই বিপুল আয়োজন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঝাড়খন্ডে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কেন?
প্রসঙ্গত কয়েক মাস আগেই মহারাষ্ট্রে রাতারাতি শিবসেনা সরকারের পতন হয়। শিবসেনার থেকে দাবী করা হয়েছিল সরকারের পতন মূলত” হর্স ট্রেডিং “এর কারণেই হয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকারকে মহাসংকটে ফেলে তার অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে রাতারাতি বিলাসবহুল হোটেলে উঠেছিলেন। গৌহাটিতে বিধায়কদের এনেছিলেন একনাথ শিন্ডে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তখনই অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির লোটাস অপারেশন নিয়ে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে একনাথ শিণ্ডে এবং দেবেন্দ্র ফড়নবিসের যৌথ সরকার ক্ষমতা দখল করে। এর আগেও এমনই কায়দাতে পতন হয়েছিল কর্ণাটক সরকারের আর সেই সময় অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছিল বিজেপির দিকে।
কর্ণাটক মহারাষ্ট্রের পর সরকার নিয়ে সংকটে পরে ঝাড়খন্ড সরকার। চলতি বছরের ৩রা মে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে তার বিধায়ক পদের অপব্যবহার নিয়ে চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন। পাথর খাদানে নিজের নামে ইজারা নেওয়ার কারণেই নির্বাচন কমিশনের চিঠি,আর তারপর বিধায়ক পদ খারিজের ইঙ্গিতে কার্যত টলোমলো মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার।
২৭শে আগস্ট নিজের মন্ত্রিসভার বিধায়ক এবং কংগ্রেসের বিধায়কদের তিনটি বাসে করে ছত্তিশগড় সীমান্তের একটি রিসোর্ট এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে কথা স্বীকার করে, বিধায়করা ঘুরতে গেছেন বলেই দাবি করেছেন ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার এক নেত্রী।
কি ব্যবস্থা নিয়েছেন হেমন্ত সোরেন?
চলতি মাসের ২৭ তারিখ সকালেই দেখা যায় তিনটি বাস বিধায়কদের বোঝাই করে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-এর বাসভবনের পিছনের গেটে এসে দাঁড়ায়।দীর্ঘক্ষণ মিটিং এর পর ওই তিনটি বাসে করে ছত্তিশগড় সীমান্তের একটি রিসোর্টে বিধায়কদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।সেই রিসোর্ট থেকে বিধায়কদের নিয়ে আসা হয়েছিল হেমন্ত সোরেন-এর বাসভবনে। মঙ্গলবার সেই বিধায়কদের সুরক্ষিত রাখতে পাঠানো হলো রায়পুর।
বারবার আস্তানা বদল

ঝাড়খণ্ডের চলতি রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই বারবার বিধায়কদের সুরক্ষিত রাখতে এবং বিজেপির প্রলোভনে যাতে না পড়ে বিধায়কেরা, সে কারণেই বিধায়কদের বারবার আস্তানা বদল করছেন হেমন্ত সোরেন। নিজের বিধায়ক পদ খারিজের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পরেই, সরকার পতনের আশঙ্কা করেছেন হেমন্ত সোরেন। তখন থেকেই অনুগত বিধায়কদের একত্রিত করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিজেপি থেকে সুরক্ষিত রাখার মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন হেমন্ত সোরেন।


More Stories
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন
“মাথা উঁচু করে রাজনীতি “- মুখ্যমন্ত্রী সকাশে মমতাপন্থী বিধায়করা
বিজেপি বিপক্ষ দল ভাঙাতে কত কোটি টাকা দিচ্ছে বলে অভিযোগ?