সময় কলকাতা ডেস্ক : কথিত আছে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলি সম্পূর্ণ বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে পুজো করতেন। এস ওয়াজেদ আলির লাইন উল্লেখ করে বলা যায়,সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। একবিংশ শতাব্দীর ভারত আজও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যর আঙ্গিকে অনন্য । আর তারই নজির দিল পশ্চিমবঙ্গের দূর্গাপুর। গণেশ চতুর্থীর লগ্নে এখানে মূর্তিপুজোর আয়োজন করল এক মুসলিম পরিবার।সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ নিতে মুসলিম চিকিৎসকের বাড়িতে পাত পেড়ে প্রসাদ খেলেন প্রতিবেশীরা। আদতে পেশায় চিকিৎসক মহম্মদ মুস্তাফা বোঝালেন তিনি একজন মহানুভব মানুষ যিনি যেকোনো ধর্মমতে ভারতীয় সংস্কৃতি বয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তাঁকে হিন্দু বা মুসলিম বা কোনও ধর্মীয় গন্ডিতে বেঁধে রাখা যায় না।
ধর্মীয় গোঁড়ামির উর্দ্ধে উঠতে লাগে প্রশস্ত হৃদয় আর সংকীর্ণতাকে উপেক্ষা করার দৃঢ়তা ।আর দূর্গাপুরের আকবর রোডের মহম্মদ মুস্তাফা সেই মানসিকতাই দেখালেন ।ধর্ম নিরপেক্ষ জীবনে বাঁচার ইচ্ছে প্রতিষ্ঠিত করতে বাড়িতে শুরু করছিলেন সরস্বতীর পূজা।আর মেয়ের ইচ্ছেয় এবার বাড়িতে মঙ্গলমূর্তির আরাধনা শুরু করলেন মহম্মদ মুস্তফা।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উঠে আসে খবরের শিরোনামে। মহম্মদ মুস্তাফার প্রচেষ্টা যেন সম্পূর্ণ আলাদা ।তাঁর কথায় নিরপেক্ষভাবে বাঁচতেই তিনি বাড়িতে পূজার আয়োজন করেছেন।স্বামীর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে মহম্মদ মুস্তাফার স্ত্রী এহেনা সুলতানা নির্জলা উপোস করেছেন। গনেশ বন্দনার সব আয়োজনও করেছেন।পুরোহিত এসেছেন, মুসলিম বাড়িতে গনেশ পুজোর মন্ত্র উচ্চারণ করে সম্পন্ন করেছেন মঙ্গলমূর্তির আরাধনা।দূর্গাপুরের আকবর রোডের মহম্মদ মুস্তফার পুজোয় প্রতিবেশীরাও সামিল হন পুজোর দিনগুলিতে।

হানাহানি আর অবিশ্বাসের যন্ত্রনায় প্রলেপ দিয়ে মহম্মদ মুস্তাফার পরিবারের উদ্যোগ বলে,ভারতে আজও বিবিধের মাঝে মিলনের সুর । দুর্গাপুরের চিকিৎসকের পরিবার সামাজিক ব্যাধির উপশমে ব্রতী। এরকম উদ্যোগে দেশ ও দেশবাসী ধর্মীয় সংকীর্ণতার উপরে উঠে মানুষের কথা বলে, বলে এক অনন্য ভাবনার কথা। সম্প্রীতির সুবাতাস বয়ে যায় ভারতবর্ষের মানচিত্রের ওপর দিয়ে।।


More Stories
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
আমডাঙায় ফুড প্লাজা ভাঙচুর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর