Home » হাল না ছাড়ার মন্ত্র, চাউমিন বানাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ

হাল না ছাড়ার মন্ত্র, চাউমিন বানাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে…’

কবীর সুমনের এই গান ময়নাগুড়ির চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত ভূজারিপাড়ার বাসিন্দা সৌরভ রায় শোনেননি। কিন্তু হাল না ছাড়াকেই জীবনের মন্ত্র করেছেন।কীভাবে? কলকাতার একটি বেসরকারি কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন সৌরভ । দরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলের পক্ষে সেই পড়া চালানোর খরচ সামলানো কম ঝক্কির ছিল না। তবুও স্বপ্নপূরণ করতে পড়া চলাকালীনই বেসরকারি চাকরি করে সেই পড়ার খরচ জোগাড় করেছেন।

করোনার কোপকে চোখের সামনে থেকেই দেখেছেন। চোখের সামনেই কতজনের চাকরি গিয়েছে। আর তাই কোনও বেসরকারি চাকরি নয়, রাজ্য সরকারের চাকরিতেই ভরসা খুঁজছেন। সরকারি চাকরি করে প্রকৃত অর্থেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। আপাতত পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সাফল্য এখনও অধরা। কিন্তু তাই বলে তো আর হাল ছেড়ে বাড়িতে বসে থাকা যায় না। পরিবারে অভাবটাও প্রকট। পরিবারকে সাহায্য করতে সৌরভ তাই মোমো-চাউমিন-চপ-কাটলেটের দোকান দিয়েছেন। ব্যবসার পাশাপাশি সমানতালে পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছে। স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এক যুবকের নাছোড়বান্দা লড়াই মানুষের কুর্নিশও কুড়োচ্ছে।

সৌরভের বাবা অমৃতকুমার রায় একজন সাধারণ কৃষক। সৌরভ গত বছর কলকাতায় একটি বেসরকারি কলেজ থেকে ৭৪ শতাংশ নম্বর নিয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। বিটেক করতে প্রায় চার লক্ষ টাকা খরচ হয়। বাবার পক্ষে এই টাকা জোগাড় করাটা রীতিমতো অসম্ভব ছিল। তাই ইঞ্জিনিয়ারিং করতে করতেই একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজে ঢুকে পড়ে সৌরভ। এখন তাই ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে রাজ্য সরকারের চাকরিকেই পাখির চোখ করেছে সৌরভ।

About Post Author