Home » অনলাইন কেনাকাটায় ঝোঁক তরুণ প্রজন্মের, কোণঠাসা দর্জিরা

অনলাইন কেনাকাটায় ঝোঁক তরুণ প্রজন্মের, কোণঠাসা দর্জিরা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ পুজোর আগে দর্জিদের সেই ব্যস্ততা যেন একেবারেই হারিয়ে গিয়েছে। কয়েক বছর আগেও পুজোর আগের এই সময়টায় দম ফেলার ফুরসত থাকত দর্জিদের। পোশাক তৈরি করে সময়মতো খদ্দেরদের হাতে তুলে দেওয়া তাঁদের কাছে ছিল চ্যালেঞ্জের বিষয়। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হাতে কাজ না থাকায় মন ভালো নেই মালদহের চাঁচল শহরের দর্জিদের। চাঁচলে বড় বড় শপিংমল যেমন গড়ে উঠেছে, তেমনি রয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটার রমরমা। অনলাইনে অর্ডার দিলেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে পোশাক। অনলাইনে কিংবা শপিংমলে গিয়ে হালফ্যাশনের রেডিমেড পোশাক কেনাই এখন নতুন প্রজন্মের কাছে ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের কাছে টেলারিং দোকানে জামাকাপড় তৈরি করা ‘ব্যাকডেটেড’। কাজেই টেলারিংয়ের দোকানে জামাকাপড় তৈরি করার চল এখন কমেই গিয়েছে।

মহামারীর সময় দর্জিদের কাজ প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। এবার আশায় বুক বেধেছিলেন মালদহের চাঁচলের পোশাক তৈরীর কারিগরেরা। কিন্তু সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে,হাতেগোনা কয়েকজন তাদের কাছে জামা-কাপড় সেলাই করাতে আসছেন। চাঁচলের মতো সদর এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক শপিংমল। দর্জিদের আক্ষেপ, বেশিরভাগ লোকজনই ওই শপিংমল গুলিতেই রেডিমেড পোশাক কেনার দিকেই বেশি ঝুকছে।

কৃষি প্রধান চাঁচল এলাকায় এবছর প্রয়োজনীয় তুলনায় বৃষ্টি অনেকটাই কম হওয়ায় পাট চাষ কম হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটা প্রভাব ফেলেছে।কৃষকরা মূলত পাট বেচেই পুজোর কেনাকাটা শুরু করে।এবার বৃষ্টি ঠিকঠাক না হওয়ায় অনেক পাট চাষ করতেই পারেনি।যারা চাষ করেছিল,তাদের অধিকাংশের ফলন হয়নি।তাছাড়া পাটের বাজারও মন্দা।

চাঁচলের দক্ষিনপাড়ার এক দর্জি সেখ আরিজুল আক্ষেপের সুরে জানান, ”অনলাইন মাধ্যমে কেনাকাটায় মানুষ অনেকটা ঝুকেছে।পাশাপাশি এলাকায় একাধিক শপিংমল রয়েছে। ফলে কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় কিনে এনে তা দর্জিদের দিয়ে সেলাই করিয়ে পোশাক পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।’

About Post Author