Home » আন্দোলন প্রত্যাহার কুড়মি জনজাতির

আন্দোলন প্রত্যাহার কুড়মি জনজাতির

সময় কলকাতা ডেস্কঃ একটানা পাঁচদিন বিক্ষোভের পর মিলল সমাধান। অবশেষে পাঁচদিন পর আন্দোলন প্রত্যাহার করল কুড়মি জনজাতি। শনিবার সকালেই অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল প্রশাসন। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরই মিলল সমাধানের সূত্র।

চারদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর শনিবারও কুড়মি জনজাতির বিক্ষোভের জেরে রেল ও সড়ক অবরোধ ছিল। এই বিক্ষোভের জেরেই নতুন করে আন্দোলন ছড়িয়েছিল নানা প্রান্তে। মঙ্গলবার থেকে এখনও পর্যন্ত রেলের তরফে মোট ২৫০টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত,তপশিলি উপজাতি তালিকাভুক্ত করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন সামিল হয়েছিল কুড়মি মাহাতো সম্প্রদায়ের সামাজিক সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার থেকে একাধিক দাবিতে রেল অবরোধে সামিল হয়েছিল কুড়মি সম্প্রদায়। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনে ব্যাহত হয় রেল পরিষেবা। এমনকী ব্যাহত হয়েছিল যান চলাচলও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় ব়্যাফও। এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামেও।

কুড়মি জাতিকে তপশিলি উপজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা, কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা, সারণা ধর্মের কোড চালু করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল অবরোধ কর্মসূচি নিয়েছিল আদিবাসী কুড়মি সমাজ। কুড়মালি ভাষায় যে কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘রেল টেকা ও ডহর ছেঁকা’। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ধামসা মাদল নিয়ে রেল লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছিল হাজার হাজার মানুষ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় প্রচুর রেল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। যতদিন না পর্যন্ত তাদের দাবি মানা হচ্ছে ততক্ষণ রেললাইন এবং জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দেয় কুড়মি সমাজের সদস্যরা।

১৯৫০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কুড়মি জাতিকে তপশিলি উপজাতি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার আগে অবশ্য এই কুড়মি জাতি তপশিলি উপজাতি তালিকা ভুক্ত ছিল। কিন্তু, ঠিক কী কারণে এই কুড়মি জাতিকে তপশিলি উপজাতি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল তা অবশ্য জানা যায়নি।

About Post Author