Home » কি আছে অয়নের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে

কি আছে অয়নের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ সোমবার ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালের তরফ থেকে অয়নের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখানে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনও ভারী ও ভোঁতা অস্ত্র দিয়েই অয়নের মাথার পিছনে আঘাত করা হয়েছিল। এমনকী ময়নাতদন্তের ২৪ ঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয় অয়নের। ইতিমধ্যেই অয়ন মণ্ডলের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ এবং হরিদেবপুর পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,তদন্তের কারণে ঘটনার পুনর্নির্মাণও হতে পারে। অন্যদিকে ধৃত প্রীতি জানা ও তার পরিবারের সদস্যদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের খবর, অয়নকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল প্রীতির মা রুমা জানা। অভিযোগ, দশমীর রাতে অর্থাৎ বুধবার মদ্যপ অবস্থায় প্রীতির বাড়ি গিয়ে তাঁকে মারধর করেন অয়ন। এরপরেই প্রীতি এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক নাবালক ইট ও বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করে অয়নকে। তবে দেহ কোথায়, কী ভাবে লোপাট করতে হবে, তার ছক কষে দেন প্রীতির বাবা দীপক জানা।

এদিকে অয়নের বন্ধু রাজু প্রামানিকের দাবি, দশমীর রাতে অয়নকে হরিদেবপুর নতুনপল্লিতে বান্ধবী প্রীতি জানার বাড়িতে ছেড়ে আসেন রাজু নিজেই। সে সময় প্রীতি জানা, রুমা জানা, প্রীতির ভাই বাড়িতেই ছিল। অয়নের বন্ধু আরও জানান, প্রীতির বাবা বাড়ি আসছে কিনা, সেদিকেই রাজুকে নজর রাখতে বলে অয়ন। রাজু জানায় ওইদিন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বাড়িতে ঢোকে প্রীতির বাবা। রাজু ফোন করে এ কথা জানাতেই অয়ন প্রীতিদের বাড়ির ছাদে লুকিয়ে পড়েন। এরপর থেকে বেশ কয়েকবার কথা হয় অয়ন ও রাজুর। এরপর রাত ২টা নাগাদ রাজু ফোন করেন অয়নকে। সে সময় ফোন ধরে কাঁদতে কাঁদতে অয়ন জানিয়েছিল তাঁর বুকে ব্যাথা করছে। মাথা ঘুরছে। প্রীতির মা ঘুষি মেরেছে তাঁকে। এরপর অয়নের সঙ্গে রাজুর শেষ কথা হয় ওইদিন মধ্যরাত ৩টে নাগাদ। এরপর আর ফোনে পাওয়া যায়নি অয়নকে। পুলিশের অনুমান, এরপরই খুন করা হয় অয়নকে। তারপর দেহ লোপাটের জন্য মগরাহাটে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতদেহ।

এদিকে, এখনও কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি অয়নের মোবাইল ফোনটির। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালীনই বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে রেখেছিল অয়ন। যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মোবাইলেই স্টোর করা ছিল। বহুবার প্রীতি ও তার মা রুমা সেগুলি ডিলিট করার কথা বললেও অয়ন ডিলিট করেনি। ফলে সেই ক্ষোভের জেরেই কি হত্যা করা হয়েছে অয়নকে? ঘটনার তদন্ত উঠে আসছে এমনই একের পর এক একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে,বান্ধবী প্রীতি ও তার মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের ছবি অয়ন প্রায়ই তুলে রাখত। এমনকী প্রীতি ও তার মায়ের আপত্তিকর কিছু ভিডিও ছিল অয়নের কাছে। মাঝেমধ্যেই অয়ন সেই ভিডিও ও ছবিগুলি নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করত মা ও মেয়েকে। সেই নিয়েই অয়নের উপর চরম ক্ষোভ জন্মেছিল প্রীতির পরিবারের। সেই কারণেই খুনের পর অয়নের মোবাইলটি অন্য জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

About Post Author