Home » সেতু বিপর্যয়ের ঘটনায় বিজেপিকে কটাক্ষ স্নেহাশিস চক্রবর্তীর

সেতু বিপর্যয়ের ঘটনায় বিজেপিকে কটাক্ষ স্নেহাশিস চক্রবর্তীর

সময় কলকাতা ডেস্কঃ গুজরাটে ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তারই মধ্যে এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বাংলার পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। এই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘গুজরাটে বিপর্যস্ত সেতু নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকদিন আগেই ব্রিজটাকে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়ার পরেও হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল। প্রায় চারশোর বেশি মানুষ ছিলেন ব্রিজের উপরে। আমরা জানি না, এখনও পর্যন্ত কতজন জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা গুজরাট থেকে ভারতবর্ষ পরিচালনা করছেন। আর সেই গুজরাটেই এত দুর্নীতি। এর মধ্যে কত কোটি টাকার দুর্নীতি আছে তা দেখতে পশ্চিমবঙ্গে যে সমস্ত বিজেপি নেতারা রয়েছেন, তাঁদের নিয়ে একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি করে গুজরাটের ওই ভেঙে পড়া ব্রিজ পরিদর্শনে পাঠানো হোক। এর মধ্যে কত কোটি টাকার দুর্নীতি আছে তা দেখতে। এরাতো পশ্চিমবঙ্গের ছিদ্রান্বেষণ করে। পশ্চিমবঙ্গকে কি করে হেনস্থা করবে বিব্রত করবে দিন রাত এই ভাবনায় ভাবে। আগে গুজরাট উত্তরপ্রদেশ সামলাক তারপর তো পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গ কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দশ বছরে যে ভাবে উন্নয়ন করে রেখেছেন যেভাবে কাজ করছেন সেটা বাংলার মানুষ জানেন।’

প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যা ৬.৪০ মিনিট নাগাদ ছট পুজোর প্রার্থনা চলাকালীন হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মোরবি জেলার মাছু নদীর উপরের শতাব্দী প্রাচীন ঝুলন্ত সেতু।সূত্রের খবর, মেরামতির কাজের জন্য গত সাত মাস বন্ধ ছিল সেতুটি। প্রায় ২ কোটি টাকা দিয়ে মেরামতির পর গুজরাটি নববর্ষে, অর্থাৎ গত ২৬ অক্টোবর খুলে দেওয়া হয় এই সেতু। এদিন ছট পুজো উপলক্ষে ব্রিজটির উপর প্রায় ৫০০ লোকের জমায়েত হয়েছিল। অত্যধিক ভিড়ের চাপ সহ্য করতে না পেরেই ভেঙে পড়ে সেতুটি, প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অনুমান। ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলে পড়ে যান সেতুর উপরে থাকা সমস্ত মানুষ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবার পিছু ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সন্ঘ্ভি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

About Post Author