সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রসঙ্গে অখিল গিরির মন্তব্যে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার অখিল গিরিকে নিয়ে মুখ খুললেন ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবার সিউড়িতে বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে এসে বলেন তিনি বলেন,’ ‘যা নোটিশ আদালত দিচ্ছে দিক। মুখ্যমন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন যে, অখিল গিরি একটা বিরাট অন্যায় করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সেজন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন। আর আমি বিশ্বাস করি যে রাষ্ট্রপতি এত উপরের মানুষ যে তিনি এই ব্যাপারটা ক্ষমা করবেন। কারণ ক্ষমাই পরম ধর্ম। আমরা গর্বিত যে দ্রৌপদী মুর্মু আমাদের রাষ্ট্রপতি। তাঁর অপমান মানে আমাদের প্রত্যেকেরই অপমান।’ পাশাপাশি আদিবাসীদের হয়ে এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আদিবাসীদের কাছ থেকে জঙ্গলের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে বলছি, বনের অধিকার আদিবাসী সমাজকে দিতে হবে। একইসঙ্গে বিরসা মুন্ডাকে প্রণাম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমার সেই লড়াই আজও শেষ হয়নি৷ আজও আদিবাসী সমাজের অধিকারের লড়াই চলবে।‘
উল্লেখ্য, শুক্রবার নন্দীগ্রামের একটি জনসভা থেকে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সভামঞ্চে আগুন লাগানোর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নাকি দেখতে খারাপ। নিজের রূপের বিচার যদিও করি না। তোমার রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু তোমাদের রাষ্ট্রপতি কেমন দেখতে বাবা!’ আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এহেন মন্তব্যের পরই সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রীতিমতো নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা দেশে। শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারের মতো নেতারা নিন্দায় সরব হয়েছিলেন। জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিল গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে অখিল গিরির এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। অখিল গিরির হয়ে ক্ষমাও চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অখিল গিরির মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে অখিলের এই মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। দল থেকে সতর্ক করা হয়েছে অখিলকে। রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি, অন্যায় করেছে অখিল গিরি। আমার বিধায়কের তরফে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য যেন না করা হয়। ভবিষ্যতে এই ধরণের মন্তব্য করলে দল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’


More Stories
কালীঘাটে মমতার বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান