সময় কলকাতা ডেস্ক: নতুন বছরের আগমন হচ্ছে। রাস্তা আলোকিত হচ্ছে। সকলেই নতুন করে উৎসবে মেতে উঠছেন। পুরনো কে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার মধ্যে নব নব আশায় বুক বাঁধছে মানুষ। বছর শেষ হওয়ার আগে থেকেই সেজে উঠছে রাস্তাঘাট, গির্জা। কোথাও বেজে উঠছে জিঙ্গল বেল যার কথা বলতে গেলে কোন সময় মনে পড়ে যায় সদ্য প্রয়াত কেকের নাম কখনও বেজে ওঠে লতা বা সন্ধ্যার কণ্ঠে রহেনা রহে হাম বা তুমি না রহিতে কাছে। সেই খ্যাতনামা মানুষ , শিল্পী, বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ যারা হয়তো চোখের সামনে নেই তবুও তাঁরা রয়েছেন হৃদয়ে। বছরকে বিদায় জানানো ও নতুন কে অভিবাদন জানানোর মুহূর্তে একবার ফিরে যাব এই বছরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়। আমরা বলতে চেষ্টা করব কিভাবে তারা খসে পড়েছে বছর-ভর। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ আমাদের ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন অমৃত লোকে।
বিনোদন দুনিয়ার নক্ষত্রপতন
সময় কলকাতার এই বছরে ফিরে দেখার প্রেক্ষাপটে নক্ষত্র পতনের প্রথম অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব বিনোদন জগতের বিদায় নেওয়া নক্ষত্রদের নিয়ে। বিনোদন জগতের নক্ষত্ররা সাধারণ মানুষের খুব আপনজন। তাদের চলে যাওয়া প্রবলভাবে দাগ কাটে জনমানসে।
১. বঙ্গবালা নাথবতী অনাথবৎ

যুক্তি তক্কো আর আর গপ্পোর বঙ্গবালা তিনি। ১৬ জানুয়ারি চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন বাংলা রঙ্গমঞ্চের চিরস্মরণীয়া ব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র।নাথবতী অনাথবতের স্রষ্টার বিদায় থিয়েটার জগতের অপরনীয় ক্ষতি। থিয়েটার জগতের অন্যতম খ্যাতনামা অভিনেত্রী হলেও ঋত্বিক ঘটকের পরিচালিত যুক্তি তক্কো আর গপ্পে তিনি প্রমাণ রেখেছিলেন যে চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয়ে সমান পারদর্শী। প্রবাদপ্রতীম শিল্পী শম্ভু মিত্রের কন্যা শাঁওলি মিত্র ৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত হওয়ার আগেই তার শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। ফুলভারে তাকে যেন বিদায় না দেওয়া হয় তাই তাঁর প্রয়াণের পরেই তার প্রিয়জনেরা তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আনেন।
২. না ফেরার দেশে ” লয়ের পুতুল “পন্ডিত বিরজু মহারাজ
তাঁর নৃত্যে মুগ্ধ হয়ে পন্ডিত রবিশঙ্কর তাকে বলেছিলেন,” তুমি তো লয়ের পুতুল “। ১৬ জানুয়ারি ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের অন্যতম স্তম্ভ নৃত্য শিল্পী পন্ডিত বিরজু মহারাজ ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন। কত্থক নৃত্যে অসামান্য পারদর্শী হলেও শাস্ত্রীয় কলা একাধিক ধারায় তাঁর ছিল বিচরণ। নবাব ওয়াজেদ আলিশার কাহিনী নিয়ে নির্মিত সত্যজিৎ রায়ের শতরঞ্জ কি খিলাড়ির কোরিওগ্রাফার ছিলেন পন্ডিত বীরজুমহারাজ নৃত্যশিল্পী হিসেবে মূলত খ্যাতি লাভ করলেও তিনি সুকন্ঠের অধিকারী ছিলেন ও সঙ্গীত শিল্পী হিসাবেও তাঁর দক্ষতা ছিল। কিডনির অসুখে তিনি ভুগছিলেন, আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রয়াত হন।
৩. আর নয় গুনগুন গুঞ্জন, বিদায় সুর-সম্রাজ্ঞী

কোকিলকন্ঠী লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণ নিঃসন্দেহে একটি যুগাবসান।বলার অপেক্ষা রাখে না তিনি ভারত তথা এই উপমহাদেশের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়িকা। সুদীর্ঘ সময় ধরে তিনি মন জয় করেছেন শ্রোতাদের। ৬ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ লড়াইয়ের পর থেমে যায় তাঁর সুরঝঙ্কার। ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিলেন মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। রেখে যান অজস্র শিল্প সৃষ্টি। মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবার কাছেই গানের তালিম শুরু হয় ছোট্ট লতার। ১৯৪১ সালের ১৬ ডিসেম্বর গায়িকা হিসেবে পথ চলা শুরু হয় লতা মঙ্গেশকরের। ৩৬টিরও বেশি ভাষায় ৩০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর।
৪. কভি আলবিদা না কহনা: বাপি লাহিড়ী
বাপি অপরেশ লাহিড়ী, সুরকার হিসাবে ফিল্ম জগতে অধিক পরিচিত ছিলেন বাপ্পি দা নামে। উপহার দিয়েছেন একের পর এক মন মাতানো হিট গান।১৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের হাসপাতালে জীবনাবসান হয় ‘ডিস্কো কিং’ বাপি লাহিড়ির। অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ১৯৭০ থেকে ৮০-এর দশকে হিন্দি ছায়াছবির জগতে অন্যতম জনপ্রিয় নাম বাপি লাহিড়ি। ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘চলতে চলতে’, ‘শরাবি’-তে সুর দিয়েছেন। গেয়েছেন একাধিক গান। ২০২০ সালে তাঁর শেষ গান ‘বাগি থ্রি’-র জন্য।
৫. ঝরা পাতা ঝড়কে ডাকে, সন্ধ্যা অবসান

এই বছরেই বাংলা সংগীতের জগতে একটি অধ্যায়ের অবসান হয়েছে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে। ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন বাংলা সঙ্গীত জগতের দিকপাল শিল্পী গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। চলচ্চিত্র জগতে প্লে ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে তাঁর গাওয়া অবিস্মরণীয় কিছু গান শ্রোতারা চিরকাল মনে রাখবেন। পাশাপাশি, আধুনিক বাংলা গান ছাড়াও সব ধরনের বাংলা গানই তিনি গেয়েছেন। শাস্ত্রীয় সংগীতে তার দক্ষতা ছিল অসামান্য। বড়ে গুলাম আলী ও তাঁর পুত্র মুনাবর আলী খানের কাছে তিনি গানের তালিম নিয়েছিলেন।৯০ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী। তিনি করোনা পরবর্তী একাধিক সমস্যা ও বার্ধক্য জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
৬. অসময়ে শেষ হল পথভোলার পথ চলা: অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৭ বছর। যেভাবে আশা জাগিয়ে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র জগতে পা রেখেছিলেন। পথভোলা,দহন বা বাড়িওয়ালি চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দাগ কেটেছিল। প্রসেনজিতের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যান। বঞ্চনার ক্ষোভ ছিল তার, তাঁর অভিযোগ ছিল বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজনীতির শিকার তিনি ।২৪ মার্চ অসময়েই থেমে যায় বাংলা সিনেমা জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের। বাংলা সিনেমার জগতে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হালে ছোটপর্দায় একের পর এক সিরিয়ালের চুটিয়ে অভিনয় করছিলেন। খড়কুটো বা ইচ্ছেনদী সিরিয়ালে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। হৃদরোগে মৃত্যু হলেও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছিল খাদ্যে বিষক্রিয়া হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
৭. গল্প দাদুর প্রস্থান: পার্থ ঘোষ

তিনি থাকবেন না থেকে যাবে তার কণ্ঠস্বর। কর্ণ কুন্তী সংবাদ কবিতার আবৃত্তি বা শ্রুতি নাটক “স্বর্গ থেকে নীল পাখি ” থেকে যাবে শ্রোতাদের হৃদয়ের মনিকোঠায়। তিনি বাচিক শিল্পী পার্থ ঘোষ। ৭ মে ৮২ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। তিনি ও তার স্ত্রী গৌরী ঘোষ বাংলা আবৃত্তি জগতে ছিলেন অন্যতম জুটি। বাংলা কবিতা আবৃত্তিতে এক অন্য ধারা এনেছিলেন তিনি। রবীন্দ্র কবিতা পাঠে তার কণ্ঠ ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী।১৯৬৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে তাকে আকাশবাণী শিল্পী হিসেবে শোনা যেত। শিশু ও কিশোরকিশোরী দের কাছে তিনি ছিলেন গল্পদাদু, তাঁর গল্প দাদুর আসর অর্ধ শতাব্দী আগে প্রবল জনপ্রিয় হয়েছিল।
৮. চির আনন্দ পথ যাত্রী: শিবকুমার শর্মা
এবছরে আমাদের হারাতে হয়েছে ১০ মে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম পুরোধা সন্তুর বাদক শিবকুমার শর্মা। ৮৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন তিনি। তার বাবা উমা দত্ত শর্মা ছিলেন একজন প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী। মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই শিবকুমার শর্মা তার বাবার কাছ থেকে সংগীত ও তবলার উপর প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন। উমা দত্ত শর্মা সন্তুর নিয়ে অনেক গবেষণা করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে তার ছেলেকে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সন্তুর বাদক হিসেবে গড়ে তুলবেন। এই চিন্তা থেকে শিবকুমার শর্মাকে তের বছর বয়স থেকেই সন্তুরের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে বম্বেতে শিবকুমার শর্মা জীবনে প্রথম বারের মত জনসম্মুখে সন্তুর বাজান। ইকোস অফ দ্যা ভ্যালি বা আনন্দ (ব্লিস) অ্যালবাম যেমন তাঁর অনন্য অবদান তেমনি প্রথাগত শাস্ত্রীয় জগতের বাইরে বেরিয়ে এসে হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়ার সঙ্গে মিলে শিবহরি জুটির মাধ্যমে একাধিক সফল চলচ্চিত্রের সংগীতের সুর নির্মাণ করেন তারা। সুরকার হিসেবে এই জুটির সাফল্য সিলসিলা,লমহে চাঁদনী, ডর সহ একাধিক চলচ্চিত্রকে প্রভাবিত করেছে। শিবহরি জুটি বাংলা সংগীতেও সুর দিয়েছেন। সৈকত মিত্রসহ একাধিক শিল্পী তার সুরারোপিত গান করেছেন।
৯. দ্যা লাস্ট রাইড, শেষ যাত্রা: সিধু মুসেওয়ালা

বয়স মাত্র ২৯ হলেও এ বছর টাই তার শেষ যাত্রা ছিল। ২৯ মে পঞ্জাবেরমানসা জেলায়, নিজের গ্রাম জাওয়ারে খুন হন সিধু মুসেওয়ালা। অন্য দিন বুলেটপ্রুফ গাড়ি নিয়ে বেরোলেও, এ দিন মহিন্দ্রা থর জিপ নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। চালকের আসনে ছিলেন নিজেই। সঙ্গে ছিলেন দুই বন্ধু। পঞ্জাব পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তায় তিন দিক থেকে তিনটি গাড়ি এসে সিধুকে ঘিরে ফেলে। তার পর এলোপাথাড়ি সাত রাউন্ড গুলি চালানো হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। আত্মরক্ষার কোনও সুযোগই পাননি সিধু। গাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর। গুলিবিদ্ধ হন তাঁর দুই বন্ধুও।
১০. জিন্দেগি দো পল কি: কে কে

৩১ মে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে কিশোর কুমারের পর যে মানুষটার গান সবথেকে বেশি হিট এবং জনপ্রিয় সেই কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথ ওরফে কে কে হঠাৎ করেই কলকাতার নজরুল মঞ্চে একটি কলেজের অনুষ্ঠান করতে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। কেকে বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন এবং এ আর রহমানের সুরে গানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। …ভারতীয় নেপত্থ্য সঙ্গীত জগতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কেরালায় জন্ম হলেও ভারতের বিভিন্ন ভাষায় তার গান রয়েছে তবে বলিউডের গানই তাকে খ্যাতির শীর্ষে যায় । প্রথাগত তালিম ছাড়াই তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
১১. কাঁচের স্বর্গ ছেড়ে আলোর দেশে: তরুণ মজুমদার

“অকুল গাঙে ভাসলাম আমি, কুলের আশা ছাড়ি ”এবছরের ৪ জুলাই, একটি অধ্যায়ের অবসান। চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার প্রয়াত। তিনি বাংলাদেশের বগুড়ায় জন্মেছিলেন ১৯৩১ সালের ৮ ডিসেম্বর। শচীন মুখার্জী আর দিলীপ মুখার্জীর সঙ্গে মিলে যাত্রিকের ব্যানারে “উত্তম সুচিত্রা”জুটির চাওয়া পাওয়া দিয়ে ১৯৫৯ সালে চিত্র পরিচালক জীবনের শুরু। তারপরে খালি ইতিহাস গড়ে গিয়েছেন তিনি একের পর এক ভিন্ন স্বাদের সিনেমা উপহার দিয়ে। পলাতক, আলোর পিপাসা, ফুলেশ্বরী, গণদেবতা, কুহেলি, দাদার কীর্তি, ভালোবাসা ভালোবাসা, পথভোলা, অমর গীতি, আলো, ভালোবাসার বাড়ি, এবং আরও অসংখ্য ছবি। ছয় দশক ধরে চিত্র পরিচালনায় তরুণ মজুমদার তাঁর পথ চলার ফাঁকে বাংলা সিনেমার দর্শকদের উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।অবিশ্রাম তিনি যুগিয়ে গিয়েছেন রুচিশীল দর্শকদের রসদ। ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল তাঁর। কয়েকদিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে তারার দেশে খুঁজে নিলেন তাঁর চির বিশ্রামের ঠিকানা , জীবনপুরে ৯১ বছরের পথ চলার অবসান।
১২. এমন একটা ঝিনুক খুঁজে পেলাম না: নির্মলা মিশ্র
স্বর্ণযুগের আরেক শিল্পীর চিরবিদায়। ৩১ জুলাই প্রয়াত হন তিনি।নির্মলা মিশ্র একজন স্বনামধন্য ভারতীয় বাঙালি গায়িকা। তিনি তাঁর গাওয়া আধুনিক বাংলা এবং ফিল্মি গানের জন্য বহুল পরিচিত। তিনি অনেক গীতিনাট্যেও অংশ নিয়েছেন। নির্মলা মিশ্র অসংখ্য নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত, শ্যামা সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান এবং লোকসঙ্গীতও গেয়েছেন। তিনি মান্না দে, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় শিপ্রা বসু এবং অন্যান্য অনেক বিখ্যাত শিল্পীর সাথে দ্বৈত গান গেয়েছেন। এই স্বনামধন্য গায়িকা ৮১ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন।
১৩. হাসো অউর হাসাও: রাজু শ্রীবাস্তব

চলতি বছরে ২১ সেপ্টেম্বর হাসিমুখে বিদায় নিয়েছেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান রাজু শ্রীবাস্তব। দিল্লি এইমসে ভর্তি ছিলেন ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে। ১৯৬৩ সালে কানপুরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম রাজুর। তাঁর বাবা রমেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তব ছিলেন একজন কবি। ছোটবেলা থেকেই রাজুর মধ্যে ছিল শিল্পীসত্তা। মানুষের চালচলন দুর্দান্ত নকল করতে পারতেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি চেয়েছিলেন মানুষকে হাসাতে, কমেডিয়ান হতে।
১৪. হাম দিল দে চুকে সনম: বিক্রম গোখলে
২৬ নভেম্বর ৭৭ বছর বয়সে পুনের হসপিটালে শেষ নিশ্চয় ত্যাগ করেন। তিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের একটি পরিচিত মুখ ছিলেন। হাম দিল দে চুকে সনম চলচ্চিত্রে তার রাশভারী ব্যক্তিত্বপূর্ণ অভিনয় দর্শকদের প্রভাবিত করেছিল । সলিম লংড়ে পে মাত রো র মত অন্য ধারার চলচ্চিত্রে তিনি দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ভুলভুলাইয়া বা অবতক ছাপ্পান 2 র মত প্রচুর জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের অন্যতম চরিত্রে তাঁকে দেখা গিয়েছে। পুলিশ কমিশনারের ভূমিকায় তাকে একাধিক চলচ্চিত্রে দেখা গিয়েছিল। টিভি সিরিয়ালে ও তাঁর দক্ষতা ছিল সংশয়াতীত। তাঁর বিদায় চলচ্চিত্র জগতে এক শূন্যতা ও বড় ধাক্কা কারণ বয়সে প্রবীণ হলেও ২০২২ সালেও একাধিক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছিলেন।।
১৫. বেলা অবেলার গল্প: মায়া ঘোষ

ডিসেম্বর মাসের ৩ তারিখ প্রয়াত হন নাট্য ব্যক্তিত্ব ও বাংলা থিয়েটার জগতের স্তম্ভ মায়া ঘোষ। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রযোজিত ‘সাঁওতালি বিদ্রোহ’, পিরানদেল্লোর নাটক, চাকভাঙা মধু এবং মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাজরক্ত’র মতো একাধিক জনপ্রিয় নাটকে মঞ্চে অভিনয় করেছেন মায়া ঘোষ। ‘বেলা অবেলার গল্প’ (১৯৮৭ সাল) নাটকে অভিনয় করে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। নান্দীকার থেকে বেরিয়ে আসার পর একাধিক থিয়েটার ওয়ার্কশপে কাজ করেছিলেন।
১৬. শেষ পর্যন্ত নিভে গেল জিয়নকাঠি: ঐন্দ্রিলা শর্মা

ছোট পর্দার নায়িকা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। খুব স্বল্প সময়ের অভিনয় জীবনে একাধিক সিরিয়াল টেলিফিল্ম এ তিনি অভিনয় করেছেন। বারবার মৃত্যুর হাতছানি অগ্রাহ্য করে জীবনের প্রতি ভালবাসায় ফিলিক্স পাখির মত ফিরে আসছিলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা । কতগুলি সিরিয়ালে তিনি অভিনয় করেছেন বা কত দক্ষ অভিনেত্রী তিনি ছিলেন তার চেয়েও তার জীবন কাহিনী এবং ক্যান্সারের সঙ্গে আর যুদ্ধ কার্যত রূপকথায় পরিণত হয়। তাঁর সঙ্গে তার যুদ্ধে বন্ধু সব্যসাচী যা এই রূপকথার একটি বৃহত্তর পটভূমি। মারণ রোগ ক্যান্সারে ক্যান্সারে ভুগতে থাকা ঐন্দ্রিলা শর্মা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এক বিরাট অংশ সাধারণ মানুষ তার জীবনের জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা করলেও এবং চিকিৎসকদের তাকে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ লড়াইও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ২০ নভেম্বর ২৪ বছর বয়সে তাঁর হৃদযন্ত্রের গতি চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়।
অন্য বলয়ের অনন্য নক্ষত্র
শুধুমাত্র বিনোদন জগত নয়, সময় কলকাতার পর্দায় আমরা তুলে ধরব এমন ভারতবর্ষের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কিছু নক্ষত্রের কথা ২০২২ সালে যাদের প্রয়াণে আমাদের স্তম্ভিত হতে হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই যা প্রবল ভাবে নাড়া দিয়েছে জনজীবন।
১৭. অর্থনীতিবিদের প্রয়াণ: অভিজিৎ সেন

এবছরের ২৯ আগষ্ট প্রয়াত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সেন। সোমবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সেন ছিলেন প্ল্যানিং কমিশনের প্রাক্তন সদস্য। দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি নিয়ে তাঁর গবেষণা উল্লেখযোগ্য৷ দিল্লির জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি-তে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন তিনি। ‘কমিশন অফ এগ্রিকালচারাল কস্ট অ্যান্ড প্রাইসেস’ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য ছিলেন অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সেন। মনমোহন সিং দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই দায়িত্ব নির্বাহ করেন অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সেন। ১৯৫০ সালে ১৮ নভেম্বর জামশেদপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দিল্লির সর্দার পাটেল বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর দিল্লির স্টিফেন কলেজে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়়াশোনা করেছিলেন। পরে তিনি অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। জন পরিষেবা প্রদানের জন্য ২০১০ সালে তাঁকে পদ্ম ভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।
১৮. পথ দুর্ঘটনায় শিল্পপতির প্রয়াণ: সাইরাস মিস্ত্রি
৪ সেপ্টেম্বর ২০২২। মুম্বাইয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান টাটা সন্সের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রি। মুম্বাইয়ের পালঘরে মুম্বাই আমেদাবাদ ন্যাশনাল হাইওয়ের সূর্য নদীর চারোটি সেতুর উপর একটি ডিভাইডারে ধাক্কা মারে সাইরাস মিস্ত্রির গাড়ি। মার্সিডিজ গাড়িতে করে গুজরাট থেকে মুম্বাই ফিরছিলেন তিনি। গাড়িতে চারজন আরোহীর মধ্যে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় দুজনের। দুর্ঘটনায় গাড়িটি সামনের অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এয়ার ব্যাগ থাকা সত্ত্বেও প্রাণ হারান সাইরাস মিস্ত্রি সহ আরো একজন।২০১২ সালে রতন টাটার অবসর গ্রহণের পর টাটা সন্সের ষষ্ঠ চেয়ারম্যান হন সাইরাস মিস্ত্রি। ২০১৬ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাইরাস মিস্ত্রি অপসারিত হন। পরবর্তীতে এন চন্দ্রশেখরন টাটা সন্সের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ৫৪ বছর বয়সেই সাইরাস মিস্ত্রির এই অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ধর্মেন্দ্রপ্রধান, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।।
১৯. উত্তরপ্রদেশের নেতাজির প্রয়াণ: মুলায়ম সিংহ যাদব

অক্টোবর মাসে ১০ তারিখে ভারতীয় রাজনীতিতে ঘটে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত হন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। সোমবার সকাল ৮.৩০ নাগাদ গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুলায়ম সিং যাদব। ২২শে সেপ্টেম্বর শ্বাসকষ্ট এবং একাধিক শারীরিক রোগ নিয়ে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মুলায়ম সিং। ১৯৩৯ সালের ২২শে নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন মুলায়ম সিং যাদব। সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবেই শেষ জীবন পর্যন্ত রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পর পর তিনবার মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছেন। ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের ময়নপুরী লোকসভা কেন্দ্র থেকেই বারবার তিনি জিতে এসেছেন। তার আগে অবশ্য আজমগড় এবং সম্বল নির্বাচনী এলাকা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
২০. চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবেন

বছরের শেষ মুহূর্তে ৩০ ডিসেম্বর মাতৃবিয়োগ হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মৃত্যুকালে হীরাবেনের বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবর নিজেই টুইট করে জানান প্রধানমন্ত্রী। একটি টুইটে মোদী লেখেন, ‘শততম জন্মদিনে যখন মায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলাম তখন তিনি বলেছিলেন, ‘কাজ করো বুদ্ধি দিয়ে এবং জীবন যাপন করো শুদ্ধ ভাবে।’
আন্তর্জাতিক জগতে নক্ষত্রপতন
সারা বছর ধরে নক্ষত্র ঝরে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। একে একে বিদায় নিয়েছেন বহু তারকা। বহু এমন মানুষ চলে গেছেন যাদের অবদান সাহিত্য, কৃষ্টি, চিকিৎসা ও মানব উন্নয়নের বিভিন্ন দিকে। তারা পথ দেখিয়েছেন মানুষকে। সেই প্রয়াত নক্ষত্রদের কথাও তুলে ধরছে সময় কলকাতা। যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা ছাড়াও অনুচ্চরিত রয়ে গেল বহু নক্ষত্রের কথা যারা চলে গেছেন ২০২২ সালে।
২১. চির বিদায় ইতালিয়ান চলচ্চিত্রের রানী মনিকা ভিট্টি
বছর শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই ২ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হলেন ইতালিয়ান চলচ্চিত্রের রানী। তিনি প্রকৃত অর্থেই ছিলেন চলচ্চিত্র জগতের এক নক্ষত্র। ইতালিয়ান অভিনেত্রী মনিকা ভিট্টি যার প্রকৃত নাম ছিল মারিয়া লুইসা সিসিয়ারেলি, তিনি ষাটের দশকে মিশেল অ্যাঞ্জেলো আন্তোনিওনি পরিচালিত বেশ কয়েকটি পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আন্তোনিওনির সাথে কাজ করার পর, ভিট্টি ফোকাস পরিবর্তন করেন এবং কমেডি মুভির অভিনয় করতে শুরু করেন, পরিচালক মারিও মনিসেলির সাথে আরও অনেক ছবিতে কাজ করেন। তিনি মার্সেলো মাস্ত্রোইয়ান্নি, অ্যালেন ডেলন, রিচার্ড হ্যারিস, টেরেন্স স্ট্যাম্প এবং ডার্ক বোগার্ডের সাথেও কাজ করেছেন।তার মৃত্যুতে, ইতালীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী দারিও ফ্রান্সচিনি তাকে “ইতালীয় সিনেমার রানী” বলে অভিহিত করেন।
২২. প্রয়াত ফুটবলের ‘প্রথম সন্তান’: ফুটবলের সিংহাসন থেকে বিদায় পেলের

১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ এই ১২ বছরের মধ্যে হয়েছে চারটি বিশ্বকাপ। আর এই সময়কালের মধ্যে পেলে বিশ্বসেরা ফুটবলার হিসেবে দর্শকদের হৃদয় স্থান পেয়ে গিয়েছিলেন। কলকাতা ও ভারতে তার জনপ্রিয়তা হয়ে ওঠে আকাশচুম্বি। সেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা নিউ এই কলকাতা নিজের বুকের মধ্যে বসিয়ে নিয়েছিল ১৯৮০ সালে যখন কসমস ক্লাবের সঙ্গে মোহনবাগানের খেলা হয়। পেলে তখন ৪০ বছর বয়স। তার ফুটবল দক্ষতা তখন পড়ে এসেছে। তবুও পেলে কে নিয়ে উন্মাদনা বিন্দুমাত্র কমেনি। এখনও পর্যন্ত মারাদোনা রোনালদিনহো মেসি রোনাল্ডোকে ফুটবল পাগল কলকাতা ভালবাসলেও তেলে ছিলেন কলকাতার আপনজন। পেলের কলকাতা আসার ৪২ বছর পরে কোন এক শীতের মধ্যরাতে কলকাতার নিশিযাপন জুড়ে থাকল আপন জনের চলে যাওয়ার খবর। নিজের মানুষকে হারানোর ব্যথা কলকাতার হৃদয় জুড়ে। এ ক্ষতের যেন কোন প্রলেপ নেই। বছরভর কে কে চলে গেলেন সব ব্যথাকে যেন ছাপিয়ে গেল ফুটবল সম্রাটের চলে যাওয়া। ফুটবলের রাজপুত্র এবং ফুটবল সম্রাট জীবনে ও মরণে একই পঙ্কতিতে চলে এলেন ২০২২ সালের বর্ষপঞ্জি মেনে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা বিফল করে ঘুমের গ্রহে পাড়ি দিলেন এই গ্রহের ফুটবল সম্রাট পেলে।
এছাড়াও ভুপিন্দর সিং, মানব মুখোপাধ্যায়, অরুন বালি সহ বিভিন্ন জগতের একাধিক নক্ষত্র পতন হয়েছে, যা এই প্রতিবেদনে অনুচ্চারিত থেকে গেল। মহাকাশের মত মানব আকাশেও নক্ষত্র আসে নক্ষত্র চলে যায়। আপাতদৃষ্টিতে নক্ষত্রের পতন হয়। তথাপি নক্ষত্রের দীপ্তি যেন হারায় না। নক্ষত্ররা মানুষের জীবনে, মানুষের চলার পথে উজ্জ্বল হয়ে পথ দেখায়, তাঁদের ব্যাপ্তি হৃদয় জুড়ে। ঝরে যাওয়া নক্ষত্রের অম্লান জ্যোতি কখনো নিভে যায় না। হারিয়ে যান না, হারাতে পারেন না লতা মঙ্গেশকর বা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের নক্ষত্র।


More Stories
সোনার ছেলে শুটার ও কোচ যশপাল রানা প্রয়াত
প্রয়াত বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি
চলে গেলেন বশির বদর