Home » নলেন গুড়ের বিশ্বজয়, প্যাকেজিং ও বিপনণ কৌশলে সাফল্য

নলেন গুড়ের বিশ্বজয়, প্যাকেজিং ও বিপনণ কৌশলে সাফল্য

সময় কলকাতা ডেস্ক:  বাংলায় এখন পিঠে পুলির সময়। বাজারে ভাল নলেন গুড় পাওয়া দুস্কর। দাম আর ভেজালের আশঙ্কায় বাজার হারাচ্ছিল বাংলার নলেন গুড়। কিন্তু রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আবার ফিরে পাচ্ছে সুদিন বাংলার খেজুরের রসের চাষিরা। আর বিশ্ব বাংলার হাত ধরে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে বাংলার নলেন গুড়।

তীব্র শীতের সকালে আবার কাঁটা সরিয়ে গাছে উঠছেন শিউলিরা।সুদিন দেখছেন তারা। অন্তত নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ ভাজনঘাটের চিত্র এটিই।বাংলার নলেন গুড়ের কদর বরাবর ছিল। কিন্তু বাজারে গুড়ের দাম ও ভেজালের আশঙ্কায় ক্রমশ চাহিদা কম ছিল।সেই সঙ্গে উত্তর ভারতের চিন কলের দাপটে মিষ্টির বাজারের এক চেটিয়া দখল চলে গিয়েছে চিনি ব্যবসায়ীদের হাতে। শীতের ভরা মরশুমে পিঠে পুলি বিমুখ হয়েছে এই প্রজন্ম।কিন্তু চিকিৎসকরা বলেন চিনের থেকে গুড় কম ক্ষতিকারক মধুমেহ রোগীদের।তার পরও রাজ্যে উৎপাদিত গুড়ের দাম ভাল পাচ্ছিলেন না খেজুরের গুড়ের উৎপাদকরা । হতাশ খেজুর বাগান করা কৃষক ক্রমশ মুখ ঘুরিয়ে নেয় এই চাষ থেকে। ২০১৮ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ নেয় বাংলায় ভাল নলেন গুড়ের জোগান অব্যহত রাখতে কারখানা গড়ার।সেই মত নদীয়া জেলায় তৈরি হয় কারখানা।আর তাতেই সুদিন দেখছেন শিউলিরা।

ভোরের আলো ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গে গাছ থেকে তাজা রস চলে আসে কারখানায় ।সেইখানেই জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় খেজুরের গুড়।আর তার গুনগত মান ঠিক আছে কিনা তা যাচাই এর পরই প্যাকেট জাত হচ্ছে বাংলার নলেন গুড়।সেই গুড় অন লাইন ও অফ লাইনে পৌঁছে যাচ্ছে সারা দেশ ও বিশ্বের বাজারে। বর্তমানে প্রায় ৪০০ মানুষের রুটি রুজির ব্যবস্থা হয়েছে এই উদ্যোগে। ধোঁয়া ওঠা গন্ধের সঙ্গে খেজুর রসে সুগন্ধ আবার রসনা তৃপ্ত করছে খাদ্য রসিক মানুষের। আর সেই সঙ্গে পুরনো গৌরব ফিরে পাচ্ছে বাংলার নলেন গুড়।

About Post Author