সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ জানুয়ারি: ববিতা সরকারের মার্কশিট প্রকাশ্যে আসার পরই উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন। এমনকী রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা। আর এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার ববিতার মামলা উঠল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। জানা গিয়েছে, আগামী বুধবার ববিতা সরকারের চাকরির নিয়োগ মামলায় শুনানি হবে। সোমবার বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব সব পক্ষকে এই মামলায় নোটিশ দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, ‘বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন তিনি। এসএসসি-র ভুলে একজন চাকরি পেয়ে গিয়েছে। বিষয়টি আরও আগে আদালতের নজরে আনার প্রয়োজন ছিল। এটা সমাজের কাছে খুবই খারাপ বার্তা।’

প্রসঙ্গত, ববিতার মার্কশিটে দেখা গিয়েছে যে তাঁর প্রাপ্ত নম্বরেও রয়েছে গরমিল। ববিতার প্রাপ্ত নম্বরের থেকে অ্যাকাডেমিক স্কোর বেশি রয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে। ববিতার এডুকেশনাল স্কোর হয়েছে ৩১। কিন্তু, কমিশনের তরফে ববিতাকে ৩৩ নম্বর দেওয়া হয়েছে। ববিতা সরকারের মার্কশিটে দেখা গিয়েছে, মোট ৮০০-এর মধ্যে তিনি ৪৪০ পেয়েছেন। এতেই তাঁর অ্যাকাডেমিক স্কোর গণনায় ভুল হয়েছে। সূত্রের খবর,এই দুই নম্বরের হেরফেরের জন্য ববিতা সরকারের জায়গায় চাকরি পেতে পারেন অন্য চাকরিপ্রার্থী অনামিকা রায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে ২ নম্বর মানে অনেকটাই নম্বর। অনেক দিন আগেই আমার চাকরিটা হয়ে যেত। চাকরির জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতেও রাজি।

প্রসঙ্গত,এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি,ঠিক সেসময়ই বাবার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে শিক্ষকতার চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর বিরুদ্ধে। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি খোয়া যায়। এরপরই অঙ্কিতার পদে মেখলিগঞ্জ ইন্দিরা গার্লস স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হন ববিতা সরকার। মাত্র সাত দিনের মধ্যে অঙ্কিতা অধিকারীর জায়গায় ববিতা সরকারকে নিয়োগ করতে হবে, এমনটাই জানিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অঙ্কিতার ফেরত দেওয়া বেতনের টাকা ১০ দিনের মধ্যে সুদ সহ দিতে হবে ববিতাকে, নির্দেশ ছিল হাইকোর্টের। জানা গিয়েছে, অঙ্কিতা অধিকারী শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দেওয়ার দিন থেকে পাওয়া সমস্ত বেতন সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা ববিতা সরকারকে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তারপরই আদালতের নির্দেশে অঙ্কিতা প্রথম এবং দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ববিতা সরকারকে দিয়ে দেওয়া হয়।’ জানা গিয়েছে,২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন ববিতা সরকার। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত হয় মেধা তালিকা। সেখানেই ওয়েটিং লিস্টে ববিতার নাম ছিল। প্যানেল লিস্টে থাকা প্রার্থীদের চাকরির পর ওয়েটিং লিস্টের প্রার্থীদের ডাকা হয়। ববিতার নাম ছিল ২০ নম্বরে। কিন্তু, দ্বিতীয় কাউন্সেলিংয়ের পর ববিতা জানতে পারেন তাঁর নাম ২১ নম্বরে চলে গিয়েছে। তারপরই ববিতা জানান মন্ত্রীকন্যা পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ৬১ নম্বর। কিন্তু তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৭৭। সেক্ষেত্রে কেন তাঁকে নিয়োগ করা হল না! এই বিষয় নিয়েই আদালতে দ্বারস্থ হন ববিতা। ৪৩ মাস চাকরি থেকে বঞ্চনা করা হয়েছে ববিতা সরকারকে।ববিতা সরকার


More Stories
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী , আর কী ঘোষণা অমিত শাহের?
কীভাবে ও কেন খু*ন শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে?
সরকার গঠন : রাজ্যপালের কাছে জমা পড়ল গেজেট নোটিফিকেশন