সময় কলকাতা ডেস্ক,৭ জানুয়ারিঃ প্রাচীন যুগে আমেরিকার অধিবাসীদের তৈরি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সাম্রাজ্য ইনকা সাম্রাজ্য। ইনকা সাম্রাজ্যের প্রথম যুগের ইতিহাস এখনও পর্যন্ত অনেকটাই ধোঁয়াশা। তবে কিছু কিছু স্পেনীয়দের লেখায় ইতিহাসের একটা ধারণা পাওয়া যায়। বহু ইতিহাসবিদের ধারণা ইনকা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মানকো কাপাক। পরবর্তীকালে ইনকা সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটিয়ে সফল রাজা হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন পাচা কুতি। ১৪৭০ সালে ইঙ্গারা সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সম্পদশালী রাজ্য চিমু অধিকার করে। বর্তমানে পেরুই হচ্ছে সেই চিমু রাজ্য। চিমু অধিকার করার সময় সিংহাসনে আসীন ছিলেন পাচা কুতির ছেলে চৌপা ইনকা। তার শাসনকালে জন্ম নেয় ইকুয়েডার রাজ্য। ইনকা সাম্রাজ্যের তখন বিস্তৃতি হয় দক্ষিণ পেরু তীরাঞ্চল, চিলির উত্তরাংশ ও আর্জেন্টিনার উত্তর-পশ্চিমাংশ এবং বলিভিয়ার মালভূমি সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পরবর্তীতে হুয়াইনা কাপাক ১৯২৭ সালে সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি আরও বৃদ্ধি করেছিলেন। যদিও তার পুত্র ছিল ইনকা সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট। আটাহুয়ালাপার শাসনকালের শেষেই ইনকা সাম্রাজ্যের পতন হয়। ইনকারা তাদের আবাসভূমিকে বলত তাওয়ানতিনসুইয়ু। কিছুয়া ভাষায় এই শব্দের অর্থ হলো চার অংশ। কারণ ইনকা সাম্রাজ্য চার ভাগে বিভক্ত করা ছিল। ভৌগলিক বৈচিত্র্যের বিচারে চার ভাগে ভাগ করেছিল ইনকারা। কোথাও বসবাসযোগ্য জমি কোথাও ছিল চাষ উপযোগী উপত্যকা আবার কোথাও পাহাড়িভূমি আবার কোন অংশে ছিল সমুদ্রের তলদেশ । ইনকাদের গঠনতন্ত্রের ভিতরেও ছিলেন প্রকারভেদ। সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন রাজকীয় পরামর্শ সভা। পুরোহিতরা ছিলেন প্রাদেশিক শাসনকর্তা ও সেনাপতিরা সম্রাজ্যের সেনাবাহিনীর পরিচালনা করতেন। সম্রাটরা অনেক সময় বিয়ে করতেন তার নিজের আপন বোনকেই। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার মত সে যুগেও ছিল সম্রাটের উত্তরাধিকারী সম্রাটের প্রথম পুত্র। অভিজাতদের মধ্যেও ছিল কাউন্সিল যে কাউন্সিল সম্রাটকে সাম্রাজ্য পরিচালনায় সাহায্য করত।রাষ্ট্রের কাজ এবং সাম্রাজ্য পরিচালনা করার কারণে অর্থের যোগানের জন্য সে যুগেও কর্মব্যবস্থা ছিল। কোন প্রজা কর পরিশোধ না করতে পারলে রাষ্ট্রের কাজ করে কর পরিশোধ করতে হতো। ইতিহাস বিদদের মতে ইনকার সাম্রাজ্যের উন্নতির প্রথম কারণ ছিল খাদ্যশস্য উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আর খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার। জনগণকে সেযুগেও খাদ্যশস্যের একাংশ কে সংরক্ষণ করতে হতো ভবিষ্যতের জন্য। তিন থেকে সাত বছরের খাদ্যশস্য মজুদ রাখার পন্থা আবিষ্কার করেছিলেন ইনকা সাম্রাজ্যের মানুষ। আর এই পন্থাকে রপ্ত করাই অন্যান্য সম্রাজ্য থেকে আরও অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ইনকাদের। আজ আমরা যে আলু খাই সেই আলু ইনকাদের অবদান। তৎকালীন সময়ে আলু ভুট্টা,ওল,গোলমরিচ চাষ হতো সমগ্র ইনকা সাম্রাজ্য জুড়ে। মদ্য পান ছিল ইনকাদের জনজীবনের অঙ্গ। ভুট্টা থেকে এক ধরনের পানীয় তৈরি করে খেত ইনকারা। যে পানিয়র নাম ছিল ঢিচা। বর্তমানে পেরুতেও এই চিঢার প্রচলন রয়েছে। মূলত চাষাবাদ ফসলের সংরক্ষণ জীবনযাত্রায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণেই ইনকা সাম্রাজ্য ছিল উন্নতির চরম শিখরে। ইনকা সাম্রাজ্যের শেষ নিদর্শন যা বর্তমানে বিশ্বের কাছে বিস্ময় তা হল মাচু পিচু। কেচুয়া ভাষায় মাচু পিকচু যার অর্থ পুরানো চূড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০৪০০মিটার উচ্চতায় পেরুর ঊরুবাম্মা উপত্যকায় অবস্থিত iইনকাদের শেষ শহর মাচু পিচু। ১৪৫০ সালে নির্মিত হয় এই শহর। পরে স্পেনের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে এটি পরিতক্ত হয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে পড়েছিল দীর্ঘ যুগ। ১৯১১ সালে হাই রাম বিয়াম নামের এক ঐতিহাসিক এটি আবিষ্কার করে বিশ্বের সামনে নিয়ে আসেন। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ইনকা সাম্রাজ্যের পতন খুব একটা আকস্মিক নয়। নিজেদের ভিতর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, সিংহাসন দখলের লড়াই অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছিল ইনকাদের। গোষ্ঠী সংঘর্ষে বিভক্ত হতে শুরু করেছিল ইনকারা। আর তারই সুযোগ নিয়ে ১৫৩২ সালে স্পেনীয় লড়াকু নেতা ফ্রান্সিসকো পিজাডরো ইনকা সাম্রাজ্যে প্রবেশ করেন। সাধারণ তীর ধনুক দিয়ে ফ্রান্সিসকো পিজারোকে ঠেকাতে পারিনি ইনকারা। শক্তিশালী বন্দুক আর কামানের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে যায় ইনকা সাম্রাজ্য আর তার ইতিহাস। শেষ ইনকা সম্রাট আটাহুয়াল্পা যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করে আর শেষ হয়ে যায় এক প্রাচীন উন্নত সভ্যতার ইতিহাস।।
প্রাচীন এক সাম্রাজ্য এখন বিশ্বের বিস্ময়


More Stories
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক