সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক,৭ জানুয়ারি :
ফুটবল সম্রাট পেলের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যে ফুটবল জগতে আরেকটি নক্ষত্রপতন। চলে গেলেন জিয়ানলুকা ভিয়াল্লি। জাতীয় দলের হয়ে ৫৯টি ম্যাচ খেলা প্রাক্তন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ভিয়াল্লি চেলসির প্লেয়ার-ম্যানেজার হওয়ার আগে সাম্পডোরিয়া এবং জুভেন্টাসকে সেরি এ এবং ইউরোপীয়ান ট্রফি জিততে সাহায্য করেছিলেন। আক্রমণ ভাগে যেকোনো জায়গায় তিনি খেলতে পারতেন। ইতালির জাতীয় দলের হয়ে ১৬ টি গোল করার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। ইতালির যুব দলের হয়েও ১১ টি গোল করেছিলেন জিয়ানলুকা ভিয়াল্লি। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলেন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও বেশি সফল হওয়ার সম্পদ ও দক্ষতা ভিয়াল্লির মধ্যে ছিল। ৭-৮ বছরের বেশি সময় দেশের হয়ে খেলেন নি তিনি। সেই সময়ের মধ্যেই তিনি ফুটবলার হিসেবে তাঁর সহজাত দক্ষতা বুঝিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর সময়কালের অন্যতম ধারাবাহিক ফুটবলারের বয়স হয়েছিল ৫৮। ১৯৯০ সালের দেশের মাটিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল ইতালি। সেবার ভিয়াল্লি সেভাবে সাফল্য না পেলেও গোল্ডেন বুট পাওয়া স্কিলাচ্চিকে দিয়ে ২ টি গোল করিয়েছিলেন।১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।শুক্রবার ইতালীয় সকার ফেডারেশন ভিয়ালির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।ভিয়াল্লি ২০১৮ সালে করোনাকালে জানিয়েছিলেন, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সাথে ১৭ মাস ব্যাপী যুদ্ধজয় করেছেন তিনি । ২০২১সালের ডিসেম্বরে জানা যায় যে মারণ রোগটি আবার ফিরে স্ট্রাইকারের শরীরে । অবস্থা খারাপ হওয়ার সাথে সাথে, ভিয়ালি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি সাময়িকভাবে ইতালির জাতীয় দলের প্রতিনিধিপর্ষদের প্রধান হিসেবে তার ভূমিকা থেকে সরে যাচ্ছেন।

ভিয়াল্লির মৃত্যুতে ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্র্যাভিনা বলেছেন যে তিনি “গভীরভাবে দুঃখিত” এবং উল্লেখ করেছেন যে, ভিয়াল্লির ক্রীড়া সাফল্য বাইরে তিনি ছিলেন “অসাধারণ মানবিক গুণাবলী” সম্পন্ন এক মানুষ।ভিয়াল্লি ইতালির প্রধান কোচ রবার্তো মানচিনির অধীনে প্রতিনিধিদলের প্রধান নিযুক্ত হন। মানচিনি ছিলেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং ফুটবল জীবনের সতীর্থ।ভিয়াল্লি- মানচিনি জুটি “জেমেলি ডেল গোল” বা “গোল টুইনস” নামে পরিচিত ছিল যখন তারা সাম্পডোরিয়াতে একসাথে খেলতেন , ১৯৯১ সালে জেনোয়ার ক্লাবটি মূলত এই জুটির দৌলতে তার একমাত্র সেরি এ শিরোপা এবং ১৯৯০ সালে কাপ উইনার্স কাপের সাথে একমাত্র ইউরোপীয় শিরোপা জিতেছিল। এছাড়াও সাম্পডোরিয়াকে ১৯৯২ সালের ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিলেন এই জুটি। ক্লাব ফুটবলে ৪৮৮ ম্যাচে ১৬৭ গোল করা ভিয়াল্লি জুভেন্টাস ও চেলসির হয়ে ভুরি ভুরি গোল করেছেন।চেলসিতে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ মরশুম পর্যন্ত খেলে ৫৮ টি ম্যাচে ২১ টি গোল করেছিলেন তিনি।বিশ্বকাপে সাফল্য না পেলেও ভিয়াল্লির খেলায় ছিল গতি এবং শিল্পের মিশ্রণ যা তাঁকে তাঁর সময়কালের বিশ্বফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।।


More Stories
পাকিস্তানকে ধ্বংস করল ভারতের মেয়েরা
হর্ষ – গুরনুরের দুরন্ত অভিষেক, জিতল ভারত
সুভদ্র কেন উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর