Home » কু অভ্যাসের বেড়াজালে মন্দির

কু অভ্যাসের বেড়াজালে মন্দির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মূলে রয়েছে পরধর্মের প্রতি শিষ্টাচার এবং নিজ ধর্মের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন। ধর্ম মানা বা না মানার ঊর্ধে দাঁড়িয়ে থাকে এক শাশ্বত সত্য যে সত্যের মূল কথা কোন ধর্মে আঘাত করা অনভিপ্রেত। এভাবেও বলা যায় , ধর্ম যার যার ধর্মীয় শিষ্টাচার সবার। মন্দির মসজিদ বা গির্জা বা গুরুদুয়ারা যাই হোক না কেন, সেখানে আঘাত করা ভারতীয় সংস্কৃতি শেখায় না। অথচ এরকমই ঘটনা বারাসাতের এক প্রাচীন মন্দিরে হয়ে চলেছে যেখানে ধর্মীয় ভাবাবেগে আসছে আঘাত। এই আঘাতের কোথাও যেন রয়েছে ভিন্ন স্বার্থসিদ্ধির রসদ। অন্তত অভিযোগের স্তরে পাওয়া বক্তব্য সেদিকেই অঙ্গুলী নির্দেশ করে।

৬৯ বছরের প্রাচীন বারাসাতের নপাড়া কালীবাড়ি মন্দিরটি যে পরিবার বরাবর নিজেদের মত করে চালিত করে থাকেন তারা হতাশ একশ্রেণীর মানুষের দায়িত্ববোধহীন কর্মকাণ্ডের জন্য। বারবার বলেও দেওয়ালে, মন্দিরপ্রাচীরে প্রস্রাবের কু অভ্যাস কে রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অবলীলায় মানুষ মন্দিরের মতো ধর্মীয় স্থানের বাইরে দাঁড়িয়ে মূত্র বিসর্জন করছেন, মন্দির প্রাচীর নোংরা করছেন, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছেন। মন্দিরের রক্ষাকত্রী কখনো মনে করছেন, কিছু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় মানুষ মূত্র বিসর্জনের মত কাজটি করছেন মানুষের মন্দিরে আগমনকে বিঘ্নিত করতে।

এর পিছনে বৃহত্তর স্বার্থ কি রয়েছে , তা অত্যন্ত পরিষ্কার না হলেও বর্তমান রিয়েল এস্টেট ব্যবসার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি অন্য কথা ভাবাতে বাধ্য করে। টাকা মাটি, মাটি টাকা – এই শাশ্বত প্রবচন এখন যে ভিন্নমুখী তাৎপর্য নিয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। উল্লেখ করা প্রয়োজন, নপাড়া কালী মন্দিরটি বারাসাতের ব্যারাকপুর রোড লাগাওয়া রাস্তার পাশে অবস্থিত যেখানে জমির মূল্য আকাশ ছোঁয়া ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখে ডরাচ্ছেন শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ।

About Post Author