Home » ফের সক্রিয় মাটি মাফিয়ারা, মালদায় জারি ধরপাকড়

ফের সক্রিয় মাটি মাফিয়ারা, মালদায় জারি ধরপাকড়

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জানুয়ারি: পাখির চোখ পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারই মধ্যে প্রশাসনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে রমরমিয়ে চলছে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। এবারে অবৈধ পুকুর ভরাট করার অভিযোগে মাটি বোঝায় পাঁচটি ট্রাক্টর আটক করল মালদা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে এক শ্রেণীর মাটি মাফিয়ারা মালদহের পুরাতন মালদার মুচিয়া অঞ্চলের রামপুর এলাকায় পুকুর ভরাট করছিল। গোপন সূত্রে অভিযানের ভিত্তিতে পাঁচটি ট্রাক্টর এবং পাঁচজন ড্রাইভারকে আটক করে মালদা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর পাঁচজন ড্রাইভারকে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে বুধবার মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।


উল্লেখ্য,বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারি নিয়ম না মেনেই মাটি থেকে ইট তৈরি হয়ে নদীপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে বিহারে। যা বিক্রি হচ্ছে চড়াদামে। কিছুদিন আগেই বিহারে মাটি পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন?। একদিকে তৃণমূল নেতারা বলছে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা যাবে না। অন্যদিকে তাদের মদতেই চলছে মাটি কাটার কাজ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় সূত্রের খবর,অবৈধভাবে মাটি কেটে সেই মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটা গুলোতে। সেই মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ইট। যে ইট গোবরা ঘাট দিয়ে নদী পথে ট্রলির পড় ট্রলি চলে যাচ্ছে বিহারে। বিক্রি হচ্ছে চড়াদামে। এই ভাবেই মাটি মাফিয়া এবং ইটভাটার মালিকরা মুনাফার লোভে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অবৈধ ভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে এর আগেও সরব হয়েছিলেন খোদ শাসকদলের বিধায়ক এবং রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল অবৈধ ভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে। বিডিও, ভূমি সংস্কারক আধিকারিক এবং আইসিকে নিয়ে গঠন হয়েছিল কমিটি। তারপরেও কি ভাবে মাটি কাটা চলছে? প্রশ্ন বিরোধীদের। তৃণমূল নেতাদের মদত ছাড়া এই কাজ হতে পারে না এমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে পাল্টা সাফাই তৃণমূলের। এ প্রসঙ্গে উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, ‘যেখানে প্রশাসনিক ভাবে কমিটি গঠন হলো মাটি কাটা রুখতে। এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী সরব হলেন। তারপরেও আবার কি ভাবে মাটি কাটার কাজ শুরু হল। তৃণমূলের মদত ছাড়া এটা কোনভাবেই সম্ভব না।’


প্রসঙ্গত, শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাই নয়, সমগ্র মালদহ জেলা জুড়ে অবৈধ ভাবে মাটি কাটা নিয়ে সরগরম হয়েছিল রাজনৈতিক মহল। এর আগেও মালদহের রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখার্জি সরব হয়েছিলেন জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। সেইসময় করা বার্তা দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও। প্রশাসনিক ভাবেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও ফের অবৈধ ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসলো। এহেন পরিস্থিতিতে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয় , সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।

About Post Author