Home » বিধ্বস্ত তুরস্কে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০০

বিধ্বস্ত তুরস্কে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০০

সময় কলকাতা ডেস্ক,৬ ফেব্রুয়ারি: প্রথমে সোমবার ভোরবেলা, ভয়ানক কম্পনে কেঁপে উঠেছিল তুরষ্ক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘুমের মধ্যে চিরঘুমের দেশে চলে যান শতাধিক মানুষ। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৮। এরপর দিনভর ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে তুরষ্ক। যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় আফটার শক। মোট ২২ বার আফটার শকে কেঁপে উঠেছে তুরস্কের মাটি। সময় যত এগিয়েছে, ততই মৃতদেহের স্তুপ জমতে শুরু করে তুরষ্কের বিভিন্ন এলাকায়। দুপুর পর্যন্ত মৃতের সংস্থা হাজার ছাড়িয়ে যায়। তখনও পুরোপুরি আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি তুর্কির বেঁচে যাওয়া মানুষজন। দুপুরে ফের ভয়াবহ কম্পনে কেঁপে ওঠে তুরষ্ক ও সিরিয়ার মাটি। রিখটার স্কেলে দ্বিতীয় কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬.৭।  নতুন করে ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয় আরও এলাকা। ফলে মৃতের সংস্থা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। ভারতীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১২০০ লোকের মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে তুর্কি প্রশাসন। সিরিয়াতেও মৃতের সংখ্যা শতাধিক।

গোটা তুরষ্ক কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। হাসপাতালগুলিও তছনচ হয়েছে। ফলে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা করতে কার্যত হিমসিম খেতে হচ্ছে তুর্কি প্রশাসনের। সূত্রের খবর, সোমবার ভোরে যেখানে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সেই কোহরামানমারাস শহরেই দ্বিতীয় কম্পনের উৎস। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় লণ্ডভণ্ড তুরষ্কের বর্তমান ভিডিও ও ছবি রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, বড় বড় বহুতল মাটিতে মিশে গিয়েছে। উদ্ধারকারীরা সেখান থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকা। যদিও সরকারিভাবে তুর্কি প্রশাসন এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানাতে পারেনি।

তুরস্কের ভূমিকম্পের খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একটি টুইট বার্তায় শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন,‘তুরস্কে ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়-ক্ষতিতে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক। তুরস্কের জনগণের পাশে ভারত রয়েছে এবং এই ট্র্যাজেডি মোকাবেলায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

 

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর ৪.১৭ নাগাদ তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বের ওসমানিয়া প্রদেশের গাজিয়ানটেপ এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কম্পনের উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম কম্পনটির ১৫ মিনিট পরেই আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬.৭।


গাজিয়ানটেপ মূলত একটি শিল্পাঞ্চল। এলাকাটি সিরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। সোমবারের ভূমিকম্পে গাজিয়ানটেপ ছাড়াও কেঁপে ওঠে সিরিয়া,লেবানন, ইয়েমেন এবং সাইপ্রাসের বেশ কিছু অঞ্চল। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই আরও অসংখ্য বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাটেও ফাটল দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এলাকাটিতে মূলত উদ্বাস্তু পরিবারের বাস। তাঁরা বেশিরভাগই তাঁবু এবং অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে বসবাস করেন। ভয়ঙ্কর এই ভূমিকম্প তাঁদের মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

About Post Author