Home » হৈমন্তীর খোঁজে লুক আউট নোটিশ জারি সিবিআইয়ের

হৈমন্তীর খোঁজে লুক আউট নোটিশ জারি সিবিআইয়ের

সময় কলকাতা ডেস্ক,১ মার্চঃ গোপাল-হৈমন্তীর জীবনে যেন পরতে পরতে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার হৈমন্তীর খোঁজে লুক আউট নোটিশ জারি করল সিবিআই। সিবিআই অফিসাররা মনে করছেন, দেশ ছাড়তে পারেন হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়। কার্যত সেকারণেই তাঁর ছবি–সহ প্রামাণ্য নথি বিভিন্ন বিমানবন্দরে পাঠিয়ে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছে। যার অর্থ, কোনও বিমানবন্দরে তাঁকে দেখামাত্রই আটক করা হবে। সিবিআই সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজাখুজি করে হৈমন্তীর বিষয়ে বড় কোনও তথ্য মেলেনি। তাঁদের ধারণা, প্রাক্তন স্বামী গোপাল দলপতির সঙ্গে হৈমন্তী গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। হৈমন্তীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁকে যাতে কেউ মেসেঞ্জারে কিছু লিখে পাঠাতে না পারে তার ব্যবস্থা করেছে হৈমন্তী। ফলে সিবিআই অফিসাররা নাগাল করতে পারছে না। ইতিমধ্যেই হৈমন্তী হোয়াটসঅ্যাপের ডিপি পরিবর্তন করেছেন। তাতে আরও সন্দেহ বাড়ছে। যদিও গোপাল দলপতি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘‌হৈমন্তী খুব শীঘ্রই সামনে আসবে। আর সব প্রশ্নের জবাব দেবে।’‌

প্রসঙ্গত,গোপাল ও হৈমন্তীর নাম উঠে আসার পর থেকেই তাঁদের সংস্থা ও কার্যকলাপ সম্পর্কে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সেইসঙ্গে হৈমন্তী কোথায় রয়েছে, তাও তাঁরা জানার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমকে গোপাল দলপতি ফের জানিয়েছেন যে, নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় মাথা রয়েছে। হৈমন্তীর কাছ থেকে এক টাকাও পাওয়া যাবে না বলে দাবি তাঁর। কীভাবে তাঁর বাড়ির আবর্জনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথির হদিশ মিলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি যোগে গোপাল দলপতি ওরফে আরমান গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের তদন্ত করতে গিয়েই বেশ কয়েকটি সংস্থার সন্ধান মেলে। অভিযোগ, হৈমন্তীর সংস্থাগুলির মাধ্যমেই টাকা পাচার করতেন গোপাল।

সংস্থাগুলির সূত্র ধরেই প্রথমে মধ্যপ্রদেশের রেওয়া অঞ্চলে একটি বণিকসভার হদিশ মেলে। এরপর হদিশ মেলে পূর্ব কলকাতার এন্টালি এলাকার একটি বণিকসভার। এই বণিকসভাগুলি তৈরি হয় ২০১৩ বা ২০১৪ সালে। ওই সময় থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ দুর্নীতি শুরু হয়। মধ্যপ্রদেশের বণিকসভার নেটওয়ার্কে ৫৮টি বেসরকারি সংস্থার সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে এই রাজ্যে রয়েছে ৪৬টি। এছাড়াও কর্ণাটক, ওড়িশা, হিমাচলপ্রদেশ, বিহারে রয়েছে একটি করে সংস্থা। চারটি করে সংস্থা রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে। ওই ৫৮টি সংস্থায় লগ্নি হয়েছে প্রায় দশ কোটি টাকা। কলকাতায় যে বণিকসভার সন্ধান মিলেছে, তার নেটওয়ার্কে রয়েছে ৪৬টি বেসরকারি সংস্থা। এর মধ্যে ৩৬টির ঠিকানা রয়েছে এই রাজ্যেই। বিহার, দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও গুজরাতে রয়েছে একটি করে সংস্থা। মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে তিনটি করে সংস্থার হদিশ মিলেছে। এই ৪৬টি সংস্থায় প্রায় ২০ কোটি টাকা লগ্নি করা হয়েছে বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে।

About Post Author