সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ মার্চ: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকারের আর একাধিপত্য থাকল না। এবার থেকে নিয়োগ হবে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার যৌথ কমিটির মাধ্যমে। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কে এম জোসেফের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার প্রধান বিরোধী দল এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গড়তে হবে। এই কমিটির সুপারিশ মেনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করবেন। যদি কখনও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা পদে কেউ না থাকেন, তাহলে বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতাকেই এই কমিটিতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

মোদি সরকারের আমলে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রেও কলেজিয়াম সিস্টেম চালু করার দাবিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার ভিত্তিতেই এই রায় দিল শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যতদিন না নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে সংসদে কোনও আইন তৈরি হচ্ছে, ততদিন এই পদ্ধতি বজায় থাকবে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এই প্রসঙ্গে রায় দিতে গিয়ে জানিয়েছে, সারা দেশেই সুষ্টভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি নতুন নির্বাচন কমিশনারদের নাম প্রস্তাব করবে। তার ভিত্তিতেই নিযুক্ত হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। ফলে বারেবারেই এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যারাই কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকে তাঁদের ঘনিষ্ঠ আমলা কমিশনের দায়িত্বে আসেন। কিন্তু আপাতভাবে নির্বাচন কমিশন এক স্বাধীন এবং স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। ফলে দাবি উঠেছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ব্যাপারে নিরপেক্ষ ভূমিকা থাকা দরকার। এবার সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইন বিভাগও জুড়ে গেল।


More Stories
আসন বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধনী তথা মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে ব্যর্থ কেন্দ্র
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক