Home » আইএসএলে সুনীল ছেত্রীর বিতর্কিত গোল কী বৈধ?  আসল নিয়মটা কী?

আইএসএলে সুনীল ছেত্রীর বিতর্কিত গোল কী বৈধ?  আসল নিয়মটা কী?

সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারি:  শুক্রবার সন্ধ্যায় আইএসএলের প্লে অফে ছিল হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ। সুনীল ছেত্রীর বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল কেরালা ব্লাস্টার্স। নির্ধারিত সময়ে খেলা অমিমাংশিত থাকে। প্লে-অফ বলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু ম্যাচের ৯৭ মিনিটে ঘটল এক ঘটনা। বক্সের ঠিক বাইরে একটি ফ্রিকিক পায় বেঙ্গালুরু। টিভিতে দেখা যায় রেফারির সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট জায়গায় বল বসিয়ে ফ্রিকিক মারতে যান সুনীল ছেত্রী।

কেরালার ফুটবলাররা তখনও দেওয়াল সাজাতে ব্যস্ত এবং গোলরক্ষক প্রভুসুখন গিল নিজের জায়গায় না দাঁড়িয়ে দলের খেলোয়ারদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন। আচমকাই ফ্রিকিক নিয়ে নেন সুনীল, কিন্তু সামনে দাঁড়ানো কেরলের আদ্রিয়ান লুনা তাঁকে আটকায়। দ্বিতীয় চেষ্টায় বলটি গোলে জড়িয়ে দেন সুনীল। রেফারিও গোলের বাঁশি বাজিয়ে দেন। এরপরই কেরালার ফুটবলাররা প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের দাবি গোল বাতিল করতে হবে, কিন্তু রেফারি ক্রিস্টাল জন তাঁদের কথায় কর্ণপাত করেননি। ফলে মাঠে বিশৃঙ্খলা ছড়ায়। পরে প্রতিবাদে কেরালার কোচ ইভান ভুকোমানভিচ তাঁর দলের ফুটবলারদের নিয়ে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান।

এখন প্রশ্ন উঠছে সুনীলের সেই গোল কী বৈধ ছিল?

আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার নিয়মে পরিস্কার এই বিষয়ে বলা আছে। ফিফার সংবিধানের ১৩.৩ ধারায় বলা হয়েছে দ্রুত ফ্রিকিক নেওয়ার নিয়ম। ফিফা জানিয়েছে, ফ্রিকিক নেওয়র সময় যদি বিপক্ষের কোনও ফুটবলার ১০ গজের মধ্যে থাকেন এবং সেই অবস্থায় কেউ গোলে শট নেয়, তাহলে বিপক্ষের ফুটবলাররা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন সেই শট বৈধ। তবে রেফারির সিদ্ধান্তই এক্ষেত্রে বিবেচিত হবে, তিনি অ্যডভান্টেজ দিতে পারেন। নিয়ম বলছে, দ্রুত শট মারার সময় বিপক্ষের কোনও ফুটবলার যদি বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তবে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন রেফারি। সেক্ষেত্রে রেফারির বাঁশি পর্যন্ত অপেক্ষা না করে কেউ ফ্রিকিক নিতেই পারেন। সুনীলের গোলের ক্ষেত্রেও এই ঘটনা ঘটেছিল।

ফিফার নিয়ম আরও বলছে, কোনও ফুটবলার চোট পেয়ে মাটিতে পড়ে থাকলে বা লালকার্ড দেখানো হলে খেলা বন্ধ থাকে, তখন রেফারি বাঁশি দিয়ে খেলা শুরু করেন। শুক্রবারের ম্যাচে এরকম পরিস্থিতি ছিল না, তাই সুনীলের গোল বৈধ বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেফারি ক্রিস্টাল জন। অপরদিকে খেলার পর বেঙ্গালুরুর ফুটবলার সুনীল ছেত্রী দাবি করেন, আমি সব সময়ে রেফারিকে জিজ্ঞেস করি ফ্রি-কিক নিয়ে থাকি। কারণ তিনি অনুমতি না দিলে, আমি শট নিতে পারব না। সেই সময়ে রেফারি জানতে চেয়েছিলেন, তিনি বাঁশি বাজাবেন, নাকি আমার ওয়াল লাগবে? আমি বলেছিলাম, আমার ওয়াল লাগবে না। আমার বাঁশিরও দরকার নেই।

About Post Author