সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ মার্চ: আজকাল উত্তরপ্রদেশের কানপুরে আলোচনায় এসেছেন এক বাবা। যার নাম সন্তোষ সিং ভাদোরিয়া ওরফে করোলি বাবা। সম্প্রতি এই করোলি বাবার বিরুদ্ধে তাঁরই এক ভক্ত অভিযোগ এনেছেন বাউন্সারদের দিয়ে মারধোর করানোর। নয়ডার বাসিন্দা ওই ভক্ত নয়ডার বাসিন্দা। যদিও একটি ভিডিও প্রকাশ করে করোলি বাবাও নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে উঠেপড়ে উঠেছেন। সবমিলিয়ে বর্তমানে তিনি খবরের শিরোনামে আছেন। এখন আপনার মনে নিশ্চই প্রশ্ন উঠছে কে এই করোলি বাবা?
আরও পড়ুন শরীরে ভিটামিনের চাহিদা মেটাতে শসা খান
সন্তোষ সিং ভাদোরিয়া ওরফে করোলি বাবা আদতে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের বাসিন্দা। উত্তরপ্রদেশ তথা গোটা দেশ যখন মহেন্দ্র সিং টিকাইতের কৃষক আন্দোলনে কেঁপে ওঠে তখনই ভাগ্য বদলে যায় সন্তোষ সিং ভাদোরিয়ার। ওই সময় কানপুরের কৃষক ইউনিয়নের নেতা সান্তরাম সিং খুন হয়ে যান। এরপর ওই এলাকার কৃষক আন্দোলনের লাগাম সন্তোষ সিং ভাদোরিয়ার হাতে তুলে দেন টিকাইত। ওই সময় সন্তোষ সিং ভাদোরিয়ার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছিল। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায় পুলিশ। আর জেলে যাওয়ার পরই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে যান সন্তোষ সিং। কারণ তিনি জেল থেকে কয়েকজন কৃষক নেতাকে ছাড়াতে সাহায্য করেন। এরপর ফের তাঁকে ধরে জেলে পাঠায় পুলিশ, তাঁর বিরুদ্ধে গুণ্ডা আইন প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ তাঁকে ব্যাপক মারধোর করে পুলিশ।

জেলে যাওয়ার পরই কৃষক আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন সন্তোষ সিং ভাদোরিয়া। এরপরই তাঁর ভাগ্য ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। কৃষক আন্দোলনের সময়ও তিনি কানপুরের জজমাউ এলাকার ফ্রেন্ডস কলোনীতে থাকতেন। জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর তাঁর আলাপ হয় ইউপিএ আমলের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জয়সওয়ালের সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই বাড়ে যে সন্তোষ সিং ভাদোরিয়াকে কয়লা নিগমের চেয়ারম্যান করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে লালবাতি নিয়ে ঘুরতেন তিনি। পরে কয়েকজন কংগ্রেসী নেতার বিরোধিতায় তাঁকে কয়লা নিগমের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সন্তোষ সিং ভাদোরিয়া নিখোঁজ হয়ে যান। আর যখন ফিরে আসেন, তখন তিনি করোলি বাবা হয়ে গিয়েছেন। তাঁর এক বিশাল আশ্রম হয়েছে ততদিনে।
আরও পড়ুন সন্ধ্যার আড্ডা জমজমাট, বানিয়ে ফেলুন চিকেন পাফ
জানা যায়, করৌলি এলাকায় সন্তোষ সিংয়ের এক আত্মীয়র থেকে তিনি কিছু জমি কেনেন। ওই জমিতে তিনি একটি শনি মন্দির তৈরি করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি। তিনি ততদিনে করোলি বাবা নামে জনপ্রিয়। আরও কিছু জমি কিনে করৌলি আশ্রম তৈরি করান করোলি বাবা। ওই আশ্রমে একটি আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল তৈরি করিয়ে দাবি করেন, ভেষজের সাহায্যে অনেক কঠিন অসুখ সারিয়ে দেওয়া হয়। ওই আশ্রমে তিনি কামাখ্যা মায়ের মন্দিরও তৈরি করেন। সে সময় সন্তোষ সিং ভাদোরিয়ার গুরুদেব রাধা রমণ মিশ্রও তাঁর সঙ্গে থাকতেন। গ্রামবাসীদের দাবি, ওই সময় সন্তোষ সিং ভাদোরিয়া নানান তন্ত্র-মন্ত্রের সাহায্যে গ্রামবাসীদের বিভিন্ন রোগ-দুঃখ দূর করার দাবি করতেন। তাঁর গুরুদেব রাধা রমণ মিশ্র মারা যাওয়ার পর নিজেই স্বঘোষিত গুরু হিসেবে নিজেকে করোলি বাবা বলে দাবি করেন।

তিন বছরেই এই করোলি বাবার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হয়েছে বলে জানা যায়। এই সময় তিনি ইউটিউবে তন্ত্র মন্ত্রের প্রচার শুরু করেন। আর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ইউটিউবে তিনি তুমুল জনপ্রিয় হন। এবং কার্যত টাকার পাহাড়ে চড়ে বসেন। তাঁর আশ্রম এখন ১৪ একরে বিস্তৃত। এবং প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার ভক্ত ওই আশ্রমে আসেন। এই আশ্রমে দুটি মন্দির আছে, একটি শনি মন্দির এবং অপরটি কামাখ্যা মন্দির। প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে হয় বার্ষিক উৎসব। করোলি বাবার আশ্রমে সম্পূর্ণ সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তবে এই আশ্রমে ঢুকতে হলে ভক্তদের ১০০ টাকার রসিদ কাটতে হয়। পাশাপাশি ৫,০০০ টাকার বেশি খরচ করতে হয় ভক্তদের। সব সময় নানা রকম যাগ-যজ্ঞে আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক উপকারী এই ফল
জানা যায়, করোলি বাবা অর্থাৎ সন্তোষ সিং যখন নিজেই যজ্ঞ করেন তখন খরচ হয় ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা। আর বিশেষ কিছু করতে চাইলে তো খরচের সীমা নেই। আবার আপনাকে পুজোর সামগ্রী থেকে শুরু করে যজ্ঞের সরঞ্জাম সব কিছুই আশ্রমের ভিতরের দোকান থেকে কিনতে হবে। জানা যায়, মনোকামনা সিদ্ধি মন্ত্রের জন্য ৯ দিন ধরে হয় যজ্ঞ। তবে ছোটখাটো কোনও হবন করার জন্য ৪ হাজার টাকার সামগ্রী কিনতে হয়। করোলি বাবা দাবি করেন, এই আশ্রমে ৯ দিন থেকে যদি কোনও ভক্ত যজ্ঞ করেন তবে তাঁকে একটি মন্ত্র দেওয়া হবে। ওই মন্ত্রের দ্বারা ওই ভক্তের সব ইচ্ছা পূরণ হবে।


More Stories
শতাধিক মহাকাশ বিজ্ঞানীর ইস্তফায় নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রীয় সরকারের
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ