সময় কলকাতা ডেস্ক,২৫ মার্চঃ শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগে দিল্লিতে ইডি দফতরে পৌঁছলেন বীরভূমের সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলি। একাধিক নথিপত্র হাতে নিয়ে ইডি দফতরে পৌঁছন তিনি। উল্লেখ্য, কয়লা ও গরু– জোড়া পাচার মামলাতেই জড়িত তিনি। অনুব্রত মণ্ডল, সায়গল হোসেনের এই অবৈধ পাচার প্রক্রিয়ায় মোটা টাকার বিনিময়ে তিনি চুপ করে থাকতেন, এই অভিযোগ উঠেছে মহম্মদ আলির বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, গত কয়েকমাসে অনুব্রত মণ্ডলের মামলা চালানোর খরচও জুগিয়েছিলেন বীরভূমের সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলি। কিছুদিন আগেই তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। সেসময় তিনি হাজিরাও দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন মাঝ আকাশে আচমকা অসুস্থ পাইলট, বিমান নামালেন যাত্রী-পাইলট!
এদিকে, বৃহস্পতিবারই গরু পাচারকাণ্ডে আসানসোল সংশোধনাগারের সুপারেনটেনডেন্ট কৃপাময় নন্দীকে তলব করেছে ইডি। আগামী ৫ এপ্রিল তাঁকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। সূত্রের খবর,ই-মেল মারফত আসানসোল সংশোধনাগারের সুপারেনটেনডেন্টকে দিল্লিতে ইডির সদর দফতরে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর,অনুব্রত মণ্ডল যে সময় আসানসোল জেলে ছিলেন, সেই সময়ের কী কী ঘটেছিল, সেসব নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গরুপাচার মামলায় ইতিমিধ্যেই দিল্লির তিহার জেলে ঠাঁই হয়েছে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের তাঁকে ১৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। গরু পাচারকাণ্ডের তদন্তে গত ৭ মার্চ অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছিলেন ইডি। তারপর থেকে ইডি হেফাজতেই ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এই একই মামলায় গ্রেফতারির পর তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেন ও হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিও। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত অনুব্রতকে ৩ এপ্রিল ফের আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছে। সূত্রের খবর,ওই দিনই অনুব্রতর সঙ্গে তাঁর হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকেও আদালতে পেশ করা হবে।

এদিকে, গরুপাচার কাণ্ডে দ্বিতীয়বারের জন্য ফের ইডি-র হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন কেষ্ট-কন্যা সুকন্যা মণ্ডল। সুকন্যা মণ্ডল হাজিরা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেই বার্তা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। সুকন্যা ছাড়াও গরু পাচার মামলায় দিল্লিতে ইডি-র সদর দফতরে তলব করা হয়েছিল অনুব্রত কন্যার গাড়ির চালক, তৃণমূলের ছাত্র নেতা কৃপাময় ঘোষ, অনুব্রত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত সিদ্ধার্থ মণ্ডল ও সঞ্জীব মজুমদারকেও। এর আগে গত সপ্তাহেই ইডি-র সদর দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল কেষ্ট-কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের। কিন্তু স্বভাবসিদ্ধ ভাবে এদিনও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান সুকন্যা। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?