Home » নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি-র স্ক্যানারে অয়ন শীলের একাধিক ব্যাঙ্ক লকার

নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি-র স্ক্যানারে অয়ন শীলের একাধিক ব্যাঙ্ক লকার

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৫ মার্চঃ নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে প্রোমোটার অয়ন শীল গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। এবার অভিযুক্ত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এই প্রোমোটার অয়ন শীলের নামে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক লকারেরও সন্ধান মিলেছে। সেই লকারে কী আছে তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত শুরু করেছে ইডি। সূত্রের খবর, এই লকারগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি রয়েছে অয়ন শীল এবং তাঁর স্ত্রী কাকলি শীলের নামে।

আরও পড়ুন    কয়লা ও গরু পাচারকাণ্ডে ইডি দফতরে হাজিরা সিউড়ি থানার আইসির

কার্যত সেকারণেই এবার কাকলিকে তলব করতে পারে ইডি। ইতিমধ্যেই ইডি-র তদন্তকারী আধিকারিকরা দু’বার কাকলির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছে বলেই সূত্রের খবর। অয়নের মূল যে সংস্থা সেই এবিএস ইনফোজোনের ডিরেক্টর পদে রয়েছেন কাকলি শীল। ইডি আদালতে জানিয়েছে, লকডাউনের মধ্যেও হুগলির গুড়াপে ছেলে অভিষেক শীলের নামে কোটি টাকার জমি কিনেছিলেন অয়ন শীল। যার রেজিস্ট্রি খরচই লেগেছিল ১০ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা। ভাঙড়ে একই দিনে তিনটি জমি কিনেছিলেন অয়ন। কাকলির নামেও বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ধারণা, এই সবটাই হয়েছে নিয়োগ দুর্নীতির টাকায়।


উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে।

আরও  পড়ুন  আজকের দিনের গুরুত্ব

একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য একএকরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।

About Post Author