সময় কলকাতা ডেস্ক,২৭ মার্চঃ নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে প্রোমোটার অয়ন শীল গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। এমনকী অভিযুক্ত এই প্রোমোটার অয়ন শীলের নামে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক লকারেরও সন্ধান মিলেছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। এবার অয়ন শীলের আরও ১০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেল ইডি। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত অয়ন শীলের ৪২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কার্যত সেকারণেই এবার আয়কর দফতর থেকে অয়ন সহ পরিবারের সব সদস্যদের গত ৫ বছরের আয়কর রিটার্নের নথি পেশ করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি রয়েছে অয়ন শীল,তাঁর স্ত্রী কাকলি শীল ও কোম্পানির নামে।
আরও পড়ুন দু’দিনের বঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

এদিকে,শুক্রবারই অয়নের স্ত্রী কাকলীর নামে একাধিক জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। শনিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অয়ন শীলের স্ত্রী কাকলি শীল বলেন,’আমি নিয়োগ দুর্নীতিতে কোনভাবেই জড়িত নই। অয়নের ব্যবসার ব্যাপারে আমি কিছুই জানতাম না। আমাকে লুকিয়েই সবটা করা হয়েছে। গত চার বছর ধরে আমি দিল্লিতে থাকি। তার আগে আট বছর ধরে আমরা আলাদা থাকি। ও কনস্ট্রাকশন সাইটেই থাকত, আমি সংসার সামলাতাম। কিন্তু একসঙ্গে না থাকলেও যোগাযোগ ছিল না যে তা নয়। পুরসভার টেন্ডারের কেলেঙ্কারির বিষয়টি অনেক পরে জেনেছি। তবে পার্টনারশিপে পেট্রল পাম্প কিনেছে সেটা শুনেছিলাম। আমায় ডিরেক্টর হিসেবে রাখা হলেও আমি কিছুই জানি না।’

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন বঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতি,বন্ধ থাকবে কলকাতার একাধিক রাস্তা! জেনে নিন বিকল্প রুট
একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য একএকরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা