সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ এপ্রিল: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হাওড়ায়। বুধবার গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন লাগে হাওড়ার চেঙ্গাইল ল্যাডলো বাজারে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ঘটনাস্থলে আসে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ১.১৫ মিনিট নাগাদ হঠাৎই আগুন লাগে হাওড়ার চেঙ্গাইল ল্যাডলো বাজারে। বিধ্বংসী এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৫০ টিরও বেশি দোকান। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়া দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। তৎক্ষণাৎ আশপাশের দোকানগুলিতেও আগুন লেগে যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারাই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। এরপর স্থানীয়দের তরফে খবর যায় দমকলে। প্রায় দু’ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। তবে ঘটনার যে দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা থেকেই স্পষ্ট যে এদিন আগুনের ভয়াবহতা ঠিক কতটা ছিল। প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন দমকলকর্মীরা। যদিও স্থানীয়রা দমকল ও পুলিশের কাছে ক্ষোভ উগরে দেয়। তাঁদের দাবি, সঠিক সময়ে দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হত।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্রম খান সরাসরি এই ঘটনার পেছনে ল্যাডলোর কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেন। তিনি এই ঘটনাকে চক্রান্ত বলেই দাবি করেন। তিনি জানান, রাত ১.১৫ মিনিটে যখন আগুন লাগে তাঁরা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বারবার বলা সত্ত্বেও বাজারের মেন গেট খোলা হয় নি। এরপর আগুন আরও বেড়ে যাওয়ার পরে ওই বাজারে কর্তব্যরত ল্যাডলোর কর্মীরা পালিয়ে যায়। ঈদ উপলক্ষে অনেক দোকান এখানে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন মিড ডে মিল ইস্যুতে কেন্দ্রের জবাবদিহি চাইল ব্রাত্য বসু
কয়েক কোটি টাকা অর্থের পণ্যসামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়েছে। এতে বহু দোকানদার সর্বস্বান্ত হয়েছে বলেই দাবি করেন আক্রম।’ তিনি আরও জানান, ঈদ উপলক্ষে নিজেদের সবকিছু জমা রেখে অনেকে দোকান দিয়েছিলো। আগুনে সব কিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। কোনো ধরণের অবাঞ্ছিত ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ। যদিও ল্যাডলো কর্তৃপক্ষ ও দমকলের ভূমিকায় যথেষ্টই অসন্তুষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।


More Stories
সাত-বউ, পাঁচটি রাজপ্রাসাদ শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর টাইগারের!
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
অর্জুন সিংকে ‘চমকানো’ বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো পুলিশ