Home » নবাবের শহরে বাদশাহী প্রত্যাবর্তন নাইটদের, জিইয়ে রইল প্লে-অফের আশা

নবাবের শহরে বাদশাহী প্রত্যাবর্তন নাইটদের, জিইয়ে রইল প্লে-অফের আশা

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৫ মে: নবাবের শহরে বাদশাহী প্রত্যাবর্তন নাইটদের। হায়দরাবাদকে ৬ রানে হারিয়ে প্লে অফের আশা জিইয়ে রাখল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথমে ব্যাট করে ১৭১ রান তোলেন নীতিশরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৬৬ রানে থামতে হয় মার্ক রামদের। চলতি আইপিএলে নিজেদের দশম ম্যাচে জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বৃহস্পতিবার নবাবের শহরে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নাইট অধিনায়ক নীতিশ রানা। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের মন্থর পিচে ২০ ওভারে ৯ উইকেট খুইয়ে ১৭১ রান তোলে কলকাতা।


প্রতি ম্যাচেই দলের ওপেনিং কম্বিনেশনে বদল করছে দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ওপেনিং করলেন গত ম্যাচের নায়ক গুরবাজ ও চোট সারিয়ে ফেরা জেসন রয়। এই জুটি বিধ্বংসী শুরু করবে এমনটাই প্রত্যাশা ছিল দলের সমর্থকদের। কিন্তু এবারও ব্যর্থ ওপেনিং জুটি। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই গুরবাজকে ডাগআউটের পথ দেখান জেনসেন। ওই ওভারের শেষ বলে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে ফিরিয়ে নাইট শিবিরে ফের ধাক্কা দেন জেনসেন। তবে রান পেলেন না চোট পাওয়ার আগে যে দুরন্ত ফর্মে থাকা জেসন রয়। ১৯ বলে ২০ রান করেই ফিরতে হল ব্রিটিশ ব্যাটারকে। এরপর অধিনায়ক নীতিশ রানা ও রিঙ্কু সিং দলের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন।

চতুর্থ উইকেটে ৪০ বলে ৬১ রান যোগ করেন নীতীশ-রিঙ্কু। দ্বাদশ ওভারে রানা ফেরেন ৩১ বলে ৪২ রান করে। প্রায় ২৫ মিটার মতো দৌড়ে দুরন্ত ক্যাচ নেন হায়দরাবাদের অধিনায়ক মার্করাম। রাসেল নেমে শুরুটা খারাপ করেননি। দু’টি ছক্কা মারেন ক্যারিবিয়ান তারকা। কিন্তু রাসেলের ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৫ বলে ২৪ রান করে মায়াস্ক মার্কণ্ডের বলে আউট হন তিনি। এরপর ক্রমাগত উইকেট পড়তে থাকে কেকেআর শিবিরের। রানের গতিও কমে যায়। শেষে রিঙ্কু সিংয়ের ৩৫ বলে ৪৬ রানের ইনিংসের দৌলতে হায়দরাবাদের সামনে ১৭২ রানের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিতে সক্ষম হয় নাইটরা। হায়দরাবাদের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জনসেন ও নটরাজন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি হায়দরাবাদের। তবে ঝড়ের গতিতে রান তুলতে গিয়ে উইকেট হারিয়ে বসে তারা। সানরাইজার্স ওপেনার মায়ানস্ক আগরওয়ালকে ফেরান হার্ষিত রানা। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নেমে ৯ বলে ২০ রান করেন রাহুল ত্রিপাঠী। এরপর শার্দুল, অনুকূল রায়, বৈভব অরোরাদের দাপটে হায়দরাবাদের ইনিংস মন্থর হয়।

আরও পড়ুন    শুভেন্দু অধিকারীর দু’টি মামলা শুনবেন না বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা

হায়দরাবাদ অধিনায় আইডেন মার্করাম ৪০ বলে ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন হেনরিখ ক্লাসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই জুটির সুবাদে একটা সময়ে মনে হচ্ছিল হায়দরাবাদের সামনে জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ক্লাসেনকে ফিরিয়ে কলকাতাকে ম্যাচে ফেরান শার্দুল। এরপর ১৮ বলে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন সামাদ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য হায়দরাবাদের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। সবাইকে অবাক করে শেষ ওভারটি বরুণ চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেন নাইট অধিনায়ক। অধিনায়ককে নিরাশ করেননি বরুণ। শেষ ওভারে মাত্র তিন রান দিলেন তিনি। আর ২০ ওভারে ১৬৬ রানে থেমে যায় হায়দরাবাদের ইনিংস। ৫ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় কলকাতা। এদিন নাইটদের হয়ে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন নাইট স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। এই জয়ের ফলে প্লে অফে যাওয়ার আশা জিয়িয়ে রাখলেন নীতিশ ব্রিগেড। আগামী সোমবার নাইটদের সামনে প্রতিপক্ষ শিখর ধাওয়ানের পঞ্জাব।

About Post Author