Home » কালিয়াগঞ্জের ঘটনায় ডিজি ও মুখ্যসচিবকে তলব করতে চান এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান

কালিয়াগঞ্জের ঘটনায় ডিজি ও মুখ্যসচিবকে তলব করতে চান এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ মেঃ কালিয়াগঞ্জের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ এবং পুলিশের গুলিতে রাজবংশী যুবকের মৃত্যু – জোড়া ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্যসচিবকে তলব করতে চান জাতীয় তফসিলি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার। রবিবার বিকেলে অরুণ হালদার রাজভবনে গিয়ে দেখা করেন সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁরা এখানে রাজনীতি করতে আসেননি, ঘটনার প্রকৃত তদন্ত চান। কালিয়াগঞ্জের ঘটনায় আগেই রাজ্যে এসে এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় তফসিলি কমিশনের প্রতিনিধিরা। রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিলেন কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার। পুলিশ নিজের ভূমিকা ঠিকমতো পালন করেনি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। আর রবিবার তিনি রাজভবনে গিয়ে জানালেন, এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্যসচিবকে তলব করতে চান।

গত কয়েকদিন ধরে কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। থানা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। যা ঠেকাতে পারেনি পুলিশ। আবার পুলিশের গুলিতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এইসব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। জেলা থেকে কলকাতার রাজপথে আন্দোলনের আঁচ পড়ে। ইতিমধ্যেই কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বদলি করা হয়েছে,কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দীপাঞ্জন দাসকে। দীর্ঘ টালবাহানার পর তাঁকে বদলি করা হয়। কালিয়াগঞ্জ ইস্যুতে ব্যাকফুটে পুলিশ। তার জেরে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে রাজ্য সরকারের। এই পরিস্থিতিকে কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দীপাঞ্জন দাসকে বদলি করে পাঠানো হল শিলিগুড়ি জিআরপি থানায়। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি জিআরপির ইনস্পেক্টর সুবলচন্দ্র ঘোষকে নিয়ে আসা হল কালিয়াগঞ্জ থানার আইসির দায়িত্বে। এদিকে,কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে রাজ্য সরকারের তিন কর্তাকে দিল্লিতে তলব করল জাতীয় তফসিলি কমিশন। রাজ্য সরকারের ওই তিন কর্তাকে ২৮ এপ্রিল হাজিরার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল।

ইতিমধ্যেই কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের আইজি, উত্তর দিনাজপুরের এসপি, জেলাশাসক এদিনের মধ্যে হাজিরা না দিলে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবারই কালিয়াগঞ্জে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগের মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছিল যে, মঙ্গলবারের মধ্যে কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডের রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্তের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশও দেন বিচারপতির রাজাশেখর মান্থা। ঘটনার পরই কালিয়াগঞ্জ থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় আদিবাসী সংগঠন। সবমিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় কালিয়াগঞ্জে। কয়েকঘন্টা কাটতে না কাটতেই পুলিশকে মারধরের ছবি ভাইরাল। প্রাণ বাঁচাতে থানা থেকে পালিয়েও রেহাই পেল না পুলিশ। লোকের বাড়িতে খাটের তলায় ঢুকে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টার সেই ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।

আরও পড়ুন   কাটা তরমুজ ফ্রিজে রেখে খাচ্ছেন ? বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

খাটের নীচে আশ্রয় নিলেও লাভ হয়নি। সেখান থেকে বের করে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মার উন্মত্ত জনতার। মুখ থেকে ঝরছে রক্ত। এরপরে হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা পুলিশের। কালিয়াগঞ্জে পুলিশকে মারধরের ভয়ঙ্কর ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে আগেই সিবিআই তদন্ত চেয়ে এবং নাবালিকার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। পাশাপাশি ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যেও আবেদন জানিয়েছিলেন মামালকারীর আইনজীবী। কিন্তু প্রধান বিচারপতি জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছেন, দ্রুত শুনানি করা সম্ভব নয়। আগামী সোমবার মামলার শুনানি হবে।

About Post Author