সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ মেঃ শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি বাতিল হয়েছিল ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। সোমবার সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৬ সালে। ওই বছর প্রথম ধাপে ৪২ হাজার ৫০০ জন চাকরিপ্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে হয়নি। অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই মামলার তদন্ত শুরু করে সিবিআই। এখনও এই মামলার তদন্ত চলছে।

তার মধ্যেই এই সাড়ে ৪২ হাজারের মধ্যে ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এই নির্দেশ আসার পরই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল জানিয়েছিলেন, ‘যাঁদের চাকরি গিয়েছে তাঁরা এখনও পর্ষদের অধীন। এই অবস্থায় পর্ষদ কখনওই দায় এড়াবে না। আমরা আইনি পরামর্শ নিচ্ছি। দরকারে উচ্চতর আদালতে যাব।’ সোমবার দেখা গেল পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি বাতিলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলার করার অনুমতি চায়। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতির সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ অনুমতি দেয়। জরুরি ভিত্তিতে এই মামলা শোনার আর্জি জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।
আরও পড়ুন ধোনিদের হারিয়ে আইপিএলে টিকে রইল কেকেআর

প্রসঙ্গত, ন’বছর আগের টেটের নিয়োগে দুর্নীতি রয়েছে বলে আদালতে মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তবে তিনি বলেছিলেন, এই প্যানেলের ৪২ হাজার ৫০০ জনের নিয়োগ হয়েছিল। কিন্তু সবাই যে বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন তা নয়। কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়ে মেধার ভিত্তিতেও চাকরি পেয়েছেন। তিনি আদালতে বলেন, যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করা হোক। এই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে এই মামলার শুনানিতেই আধ ঘণ্টার নোটিসে জেল থেকে হাইকোর্টে ডাকিয়ে আনা হয়েছিল মানিক ভট্টাচার্যকে। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য। শীর্ষ আদালত বলেছে, ওএমআর শিট জালিয়াতিতে আসল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মানিকই। দেখা গেল তাঁর সময়ে হওয়া ২০১৪-র টেটে এদিন এতোজনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।


More Stories
ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রভাব কোথায়? বিরোধিতা কেন?
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও