সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ মে: শনিবার শালবনীতে নবজোয়ারের সভায় যোগ দেওয়ার কথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঠিক তার আগেই, শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের উপর লাঠি, বাঁশ, ইট নিয়ে হামলার অভিযোগ। রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে কুড়মি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম শহরে নবজোয়ার কর্মসূচির রোড শো ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নবজোয়ার’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। এদিন রোড শো শেষ করে লোধাশুলি হয়ে অভিষেকের কনভয় শালবনি যাওয়ার পথে ৫ নম্বর রাজ্য সড়কের দু’ধারে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কুড়মি আন্দোলনকারীরা। ঘটনার পরই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে শাসক দল। অভিষেক বলেন, এই বিক্ষোভের পিছনে কারা আছে, তা না জানালে প্রশাসন কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে। সেই ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই চারজনকে আটক করা হয়েছে।

শাসকদলের অভিযোগ,তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের উদ্দেশ্যে ‘চোর চোর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়। এরপর তৃণমূল নেতার কনভয়ের শেষে থাকা মন্ত্রী বীরবাহার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইটও। এতে মন্ত্রীর গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে গিয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি বীরবাহার গাড়ির চালককেও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, দলীয় কর্মীদেরও বাঁশ, লাঠি দিয়ে মারা হয়। এদিন কুড়মিদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে সিপিএম এবং বিজেপিকেও দায়ী করেছেন বীরবাহা। মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির পর আসরে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একপ্রস্থ কথা বলেন।এমনকী মুখ্যমন্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেও গোটা বিষয়টি জানান তিনি।
আরও পড়ুন সপ্তাহান্তে ফের যাত্রী দুর্ভোগের আশঙ্কা, হাওড়া- তারকেশ্বর রুটে বাতিল একাধিক ট্রেন

ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ডিজি ও রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপারের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নবান্ন।তারপরই রাজ্য পুলিশের ডিজি কড়া ব্যবস্থা নেন। জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেন। অন্যদিকে, এদিন মন্ত্রীর গাড়িতে ভাঙচুর হওয়ায় সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে পিডিপিপি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সেইসঙ্গে খুনের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে, যা জামিন অযোগ্য। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন,‘যারা ঝাড়গ্রামকে অশান্ত করতে চাইছে, তাঁদের ছাড়বেন না। তবে প্ররোচনায় পা দেবেন না।’


More Stories
ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত -নাম না করে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু সেনের
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে