সময় কলকাতা ডেস্ক,১৫ জুনঃ শক্তিগড়ে ব্যবসায়ী রাজু ঝা খুনের ঘটনায় অবশেষে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী চার মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে বলেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। খুনের সময় গাড়িতে থাকা আরেক ব্যক্তি আব্দুল লতিফ কয়লা পাচারে অভিযুক্ত। আব্দুল লতিফের নাম সিবিআইয়ের চার্জশিটেও রয়েছে। ‘আদালত মনে করছে এই খুন ও কয়লা পাচার একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত’। আদালতের নির্দেশ, রাজ্য পুলিশ অবিলম্বে সিবিআই ও অ্যান্টি কোরাপশন ব্রাঞ্চের এসপি-কে কেস ডায়েরি সহ যাবতীয় নথি হস্তান্তর করবে।
আরও পড়ুন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দমদম বিমানবন্দরের ভিতরে

প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে দুষ্কৃতীরা গুলিতে ঝাঁজরা করে দেয় রাজু ঝাকে। নীল গাড়িতে চেপে এসে কাজ সেরে আবার ওই গাড়িতেই চম্পট দেয় শার্প শুটাররা। ঘটনাস্থলে একটি নীল রঙের বাইকেরও অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাতে শার্প শুটারদের সঙ্গে থাকা একজনকে চেপে পালাতে দেখা গিয়েছে। পরে ওই নীল চারচাকা গাড়িটি শক্তিগড় থানার অদূরে উদ্ধার করা হয়। এই নীল গাড়িটিকে ঘটনার ভোরে পশ্চিম বর্ধমানের ডুবুরডিহি চেক পোস্ট দিয়ে ঝাড়খণ্ড-বিহারের দিকে যেতে ও ওইদিন দুপুরে আবার ফিরে আসতে দেখা যায়। কিন্তু গাড়ির হদিশ পাওয়া গেলেও রহস্যের শিকড়ে পৌঁছতে পারছিলেন না তদন্তকারীরা। কারণ, ওই নীল গাড়িটি দিল্লি থেকে চুরি করা হয়েছিল বলেই জানতে পারে তদন্তকারীরা।

এরপরই কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা খুনের ১৯ দিনের মাথায় বাঁকুড়ার ছেলে বর্তমানে দুর্গাপুরের কর্মরত অভিজিৎ মন্ডলকে আটক করে পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় থানার পুলিশ। ওইদিন গভীর রাতে কাঁকসা থানার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার। ধৃতকে জেরা করলেই বাকি অভিযুক্তদের হদিশ মিলবে বলে আশাবাদী ছিল তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে,অভিজিতের আসল বাড়ি বাঁকুড়ায়। রানিগঞ্জের মাফিয়া নারায়ণ গেরফার গাড়ি চালাত এই অভিজিৎ। দীর্ঘদিন ধরে রাজুর সঙ্গে বালি ও কয়লা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল নারায়ণের। অভিজিৎ গ্রেপ্তার হতেই ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে ইন্দ্রজিৎ গিরি ও লালবাবু কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণ কেন? কলকাতা হাইকোর্টে মামলা নির্বাচন কমিশনের

অন্যদিকে,অভিজিৎ মণ্ডল গ্রেফতার হতেই পুলিশের জালে নজরে ছিল নারায়ণ ওরফে নরেন্দ্র খেরকা। রাজেশ ওরফে রাজু ঝা হত্যা কাণ্ডে একসময়ের সহযোগী নারায়ণের যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ এসেছে এই মামলায় গঠিত স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিটের হাতে। সেই মতোই কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খেরকার দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারের অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। তদন্তকারী সিট-এর আধিকারিকদের প্রায় ১০ গাড়ি পুলিস নারায়ণ খেরকার অফিস ঘেড়াও করে ফেলে। যদিও অফিসে কেউ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিজিৎ কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খেরকার গাড়ির চালক। অভিজিৎ ধরা পড়তেই গা ঢাকা দিয়েছিল নারায়ণ। তাতে পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে।


More Stories
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
অভিষেকের পরে কল্যাণ
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!