Home » ‘রাজ্যের ৫০টা ব্লকে লুঠ চলছে’, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে শুভেন্দু অধিকারী

‘রাজ্যের ৫০টা ব্লকে লুঠ চলছে’, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে শুভেন্দু অধিকারী

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৫ জুনঃ পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পর্বে জেলায় জেলায় অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছে। বুধবার দিনভর মুড়িমুড়কির মতো বোমা-গুলি চলেছে ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকে। এহেন পরিস্থিতিতে বিকেলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, রাজীব সিনহার সহায়তায় রাজ্যের ৫০টা ব্লকে লুঠ চলছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নিয়ে রাজ্যের একাধিক জেলায় অশান্তি অব্যাহত।তারই মাঝে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে থেকে কার্যত নির্বাচন কমিশনারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, যাঁরা মনোনয়ন দিতে পারবেন না তাঁরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে আসবেন।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণ কেন? কলকাতা হাইকোর্টে মামলা নির্বাচন কমিশনের

মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। এমনকী বিডিও অফিস চত্বরও এদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু-দলের কর্মী সমর্থকদের হাতাহাতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মারামারির ছবি তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। তাঁদেরকেঅ এদিন মারধর করা হয়। এদিন শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন দিতে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, আইএসএফ বাধা দিলে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য তৈরি হয়েই আসতে হয়েছে তাঁদের। আইএসএফ-সিপিআইএমের অভিযোগ,এদিন মনোনয়ন দিতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা, এমনকী গুলি চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গেলে অগ্নিগর্ভ চেহারা নেয় ভাঙড়। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলতে থাকে বোমাবাজি।

উল্লেখ্য,শুক্রবার থেকেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু করেছেন প্রার্থীরা। আর এই মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কোথাও গোষ্ঠীকোন্দল আবার কোথাও শাসক বিরোধী লড়াই, প্রতিনিয়ত অশান্তির খবর মিলেছে। পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি রুখতে সোমবার থেকেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যে চিঠি পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তারা জানাল, ভোটের সময়ে নজরদারি চালাতে রাজ্যে আসবে তারা। রাজ্যজুড়ে মনোনয়ন সংক্রান্ত অশান্তির আবহে ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে এবং মনোনয়নকে ঘিরে যাতে রাজ্যে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন    ‘এই রাজ্যের যেখানেই ভোট হবে, সেখানেই তৃণমূল হারবে’, মনোনয়নপত্র জমার মিছিল থেকে তোপ শুভেন্দু অধিকারীর

এদিকে রাজীব সিনহাও রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন ও ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে সবরকম পদক্ষেপ করছে কমিশন। পাশাপাশি, জানিয়েছে, ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে তারা। এসবের মধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে মানবাধিকার জানিয়েছে, তারা নজরদারি চালাবে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে। অর্থাৎ কোথাও কোনও অশান্তি হলে তারা নিজেদের উদ্যোগে রিপোর্ট তৈরি করবে এবং পরবর্তীকালে তা দেখিয়ে রাজ্যের কাছে জবাবদিহিও চাইতে পারে তারা।

About Post Author