Home » পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তৃণমূল পৌঁছে গেল এক নম্বরে, একদিনেই মনোনয়ন জমা পড়ল ৪০ হাজার

পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তৃণমূল পৌঁছে গেল এক নম্বরে, একদিনেই মনোনয়ন জমা পড়ল ৪০ হাজার

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৫ জুনঃ পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবার মাত্র ৬ দিন সময় দিয়েছে। গত শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে মনোনয়ন জমা দেওয়া। প্রথম থেকেই দেখা গিয়েছিল শাসকদল তৃণমূলেরই মনোনয়ন জমা পড়েছে সবচেয়ে কম। মঙ্গলবার, মনোনয়ন পেশের চতুর্থ দিনের রাতে দেখা যায়, বিজেপি যখন ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে ৩৭ হাজারের বেশি আসনে মনোনয়ন জমা করে ফেলেছে, তখনও ১০ হাজার পেরোয়নি তৃণমূল। এমনকী সিপিএম-কংগ্রেস মিলিয়েও ততক্ষণে ৩৭ হাজার মনোনয়ন জমা পড়ে গিয়েছে। বুধবার রাতে কমিশন সূত্রে যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে, তাতে একদিনেই এক নম্বরে উঠে এসেছে তৃণমূল। কেবলমাত্র বুধবার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত একদিনে তৃণমূলের ৪০ হাজার ১৬৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। পঞ্চম দিন পর্যন্ত তৃণমূলের মোট ৪৯ হাজার ৪৯১ প্রার্থী মনোনয়ন পেশ করেছেন।

আরও পড়ুন    ‘রাজ্যের ৫০টা ব্লকে লুঠ চলছে’, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে শুভেন্দু অধিকারী


এদিকে,বিজেপির পদ্মফুল প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৪৬ হাজার ৩০৮ জন। সিপিএমের ৩৮ হাজার ০৩৯ জন প্রার্থী ও কংগ্রেসের ১১ হাজার ৮২৩ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছেন। রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ মিলিয়ে মোট ৭৩৮৮৭। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার শেষ দিনে ২৪ হাজার ৩৯৬ টি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা তৃণমূল প্রার্থীদের। রাজনৈতিক শিবিরের অনেকের মতে, যদি দেখা যায় কোনও অশান্তির কারণে কিছু আসনে তৃণমূলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি, তাহলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে। অর্থাৎ মনোনয়ন জমা দেওয়ার মেয়াদ এলাকা ভিত্তিতে একদিন বাড়ানো হতে পারে।

উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি রুখতে সোমবার থেকেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এদিকে,ভোট ঘোষণা হতেই মনোনয়নের সময়সীমা বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এবার পঞ্চায়েত মামলার শুনানিতে মনোনয়ন জমার দিন বাড়ানোর ব্যাপারে মতামত জানাল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এদিন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আদালত যদি বলে তাহলে ১৫ জুনের বদলে ১৬ জুন পর্যন্ত মনোনয়নের সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। এর চেয়ে বেশি বাড়ালে সামগ্রিক নির্বাচন নির্ঘণ্ট ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। শুক্রবারের শুনানিতে হাইকোর্ট কমিশনকে বলেছিল, মনোনয়ন পর্বের সময়সীমা বাড়ানো যায় কিনা তা ভেবে দেখা হোক। সোমবারের শুনানিতে কমিশন জানিয়েছে, একদিন তা বাড়ানো যেতে পারে।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়েত ভোটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণ কেন? কলকাতা হাইকোর্টে মামলা নির্বাচন কমিশনের

এদিন পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নের সময়সীমা বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। তাঁর পর্যবেক্ষণ, আগের বারের তুলনায় মনোনয়ন পেশের সময় কম। প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা মনোনয়ন পেশের জন্য অপর্যাপ্ত। এ প্রসঙ্গে কমিশন বলেন, মনোনয়নের সময় চাইলে একদিন বাড়ানো যেতে পারে। প্রত্যুত্তরে বিচারপতি বলেন, সে ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ভোট ১৪ জুলাই করাতে হবে। এদিন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অতীতেও সাত দিনের মনোনয়ন পর্বে নির্বাচন হওয়ার রেকর্ড বাংলায় রয়েছে। এবার যে প্রথম হচ্ছে তা নয়। এদিন আদালতে হাজির ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অন্যতম মামলাকারী। শুভেন্দুর মূল আর্জি মনোনয়নের সময় বাড়ানো এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট করানো হোক। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিষয়ে আর্জি জানিয়েছিল কংগ্রেসও।

About Post Author