Home » নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জুন: রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী ওরফে ডালুবাবু। জানা গিয়েছে, দু’জনে পৃথক পিটিশন দাখিল করেছেন। তাঁদের বক্তব্য হল, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মানেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলেছিল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনতে হবে। তা হয়নি। একইসঙ্গে মনোনয়ন, স্ক্রুটিনি পর্বে যে ভিডিওগ্রাফির নির্দেশ দিয়েছিল তাও কার্যকর করেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

শুভেন্দু ও ডালুবাবুরা এটিকে আদালত অবমাননা হিসাবে দেখাতে চেয়েছেন। যদিও হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। এদিন এই জোড়া পিটিশন গ্রহণ করে মামলা করার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। এখন দেখার কী হয় সুপ্রিম কোর্টে, কীই বা হয় আদালত অবমাননার মামলার শুনানিতে।

আরও পড়ুন  হলিউডে পা রাখতেই উপেক্ষিত! প্রকাশ্যে আলিয়ার ‘হার্ট অফ স্টোন’-এর ট্রেলার

কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই করতে হবে পঞ্চায়েত ভোট। এবার  কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকেমেল করতে চলেছেন ভোট কর্মীরা। কয়েক লক্ষ মেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজ্য পুলিশে নেই ভরসা। এই বয়ানে মেল করা হবে নির্বাচন কমিশন দপ্তরে। মেল করবেন সারারাজ্যের ভোটকর্মীরা। কয়েক লক্ষ মেল যাবে।গণস্বাক্ষর নেওয়ার পর দেওয়া হবে ডেপুটেশন। একইসঙ্গে তাঁরা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে চলেছেন বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলার প্রত্যেকটা ট্রেনিং সেন্টারে (ভোটের) কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে চলেছেন যৌথ মঞ্চের প্রতিবাদীরা। সঙ্গে চলবে গণস্বাক্ষর নেওয়ার অভিযান। শুধু ভোটার নয়, যাঁরা ভোট দিতে যাবেন তাঁদের নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইছেন যৌথ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। এই দাবিকে সামনে রেখে ২৫ জুন মহামিছিলের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথমঞ্চ।

উল্লেখ্য,পঞ্চায়েত ভোটের রায় ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানিয়েছিল, রাজ্যের স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যে যে সব জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে, সেখানে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রের কাছে রিক্যুইজিশন পাঠানো হোক। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি, পঞ্চায়েত মামলা চলাকালীন কমিশন একটি বা একাধিক জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করে কোনও রিপোর্টই পেশ করেনি। সে রকম কোনও প্রাথমিক মূল্যায়নও করেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টে থেকে কোনও সুরাহা না পেলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার পথ খোলা রাখছে। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা শুরু করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্তারা।

About Post Author